
দিনাজপুর-৩ আসনের প্রার্থীরা
জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। যদিও আসনটি বেশির ভাগ সময় দখলে থেকেছে আওয়ামী লীগ। এই আসনটিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় বোন প্রয়াত খুরশীদ জাহান হক (চকলেট) তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী থাকাকালীন এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন, যা এখনো মানুষের মুখে মুখে রয়েছে। তাই পরিবার থেকে কেউ প্রার্থী হলে জয় পাওয়া কঠিন হবে না।
এদিকে একক প্রার্থী হওয়ায় সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে জামায়াত। ১৯৯১ সালে সদর উপজেলায় সবাইকে তাক লাগিয়ে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা মজিবর রহমান জয়ী হলে তখন থেকেই এই আসনে জামায়াতকে সকলে হিসাবের মধ্যে রেখেছে।
দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ, ১৯৭৯ সালে বিএনপি, ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগ, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচন এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে বেগম খুরশীদ জাহান হক (বিএনপি) থেকে নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা চারবার নির্বাচিত হয় আওয়ামী লীগ।
দিনাজপুরে এ আসন থেকে মনোনয়ন চাওয়ার তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের বড় বোন প্রয়াত খুরশীদ জাহান হকের বড় ছেলে খালেদা জিয়ার ভাগনে শাহরিয়ার আক্তার হক ডন। তিনি বহু পূর্ব থেকেই দিনাজপুরে নেতাকর্মীদের সাথে ঘরোয়া সমাবেশ ও মতবিনিময় অব্যাহত রেখেছেন। নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে তিনি সর্বদা কর্মকাণ্ড জারি রেখেছেন।
অন্যদিকে রংপুর বিভাগীয় সাবেক যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম জনপ্রিয় নেতা হিসেবে সর্বজন পরিচিত। ৩ বারের পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ছিন্নমূল ও শ্রমিক শ্রেণীর কাছে সর্বাধিক জনপ্রিয়। এক সময়ের তুখোড় ছাত্র নেতা হিসেবে তার রয়েছে বিশেষ ইমেজ।
অন্যদিকে দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসন দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক (পদ স্থগিত) বখতিয়ার আহম্মেদ কচি, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোকাররম হোসেন ও জেলা বিএনপির সদস্য শিল্পপতি হাফিজুর রহমান মনোনয়ন নেয়ার জন্য জোর প্রচারণা ও লবিং গ্রুপিং অব্যাহত রেখেছেন। এদের মধ্যে ত্যাগী নেতা হিসেবে সাবেক পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, বখতিয়ার আহম্মেদ কচি, মোফাজ্জল হোসেন দুলাল ও মোকাররম হোসেনের নাম উল্লেখযোগ্য। তারা সকলেই দুঃসময়ে পাশে থেকে দলকে সচল রেখেছেন।
এদিকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট ময়নুল আলম দলীয়ভাবে চূড়ান্ত হয়েছেন। তিনি দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, বিমান বাহিনীর সার্জেন্ট (অব.) ও দিনাজপুর জেলা জামায়াতের ইউনিট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতিমধ্যে তিনি শহরময় ছোট ছোট ব্যানার টানিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। জানান দিচ্ছেন সংসদ নির্বাচনে তার প্রার্থী হওয়ার কথা।
অন্যদিকে জাতীয় পাটি নির্বাচন করলে এ আসনে বরাবরের মতো প্রার্থী হবেন জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ শফি রুবেল। তিনি জানিয়েছেন, কেবল দলীয় সিদ্ধান্ত হলেই তিনি নির্বাচন করবেন। এদিকে এই আসনে অন্য দলগুলোকে নিয়ে নির্বাচনী কথাবার্তা বলতে শোনা না গেলেও কিছু ইসলামি দল তাদের প্রার্থী দিবেন বলে জানা গেছে। নতুন গঠিত এনসিপিও তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। তবে তারা কৌশলগত কারণে প্রকাশ্যে আসছে না।
দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক (স্থগিত) বখতিয়ার আহমেদ কচি বলেন, “বরাবরই এই আসনটির মানুষ উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। একমাত্র বিএনপি তথা প্রয়াত মন্ত্রী বেগম খুরশিদ জাহান হকের হাত ধরে দিনাজপুর বাসীর উন্নয়ন হয়েছিল। যার সুফল দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়বাসী ভোগ করছে। আমি মনোনয়ন পেলে ও নির্বাচিত হলে বৃহত্তর দিনাজপুরের মানুষ যাতে করে উন্নত চিকিৎসা পায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিব। গত ১৫ বছরে দিনাজপুর বাসীর সাথে চরম প্রতারণা করা হয়েছে। রাস্তাঘাট থেকে সব ক্ষেত্রে উন্নয়ন সুবিধা ইচ্ছাকৃত ভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। উন্নয়নের নামে নিজেদের উন্নয়ন করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ময়নুল ইসলাম বলেন, “আমি শহর থেকে গ্রামাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে যাচ্ছি। সেখানে গ্রামের মানুষদের কথা শোনার চেষ্টা করছি। বিগত ১৫ বছরে শহর কিংবা গ্রাম সব জায়গায় উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে এ অঞ্চলের মানুষ। আমি নির্বাচিত হলে শহর ও গ্রামের উন্নয়নে কাজ করবো। আমি অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করবো।”
জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোকাররম হোসেন বলেন, “সাবেক মন্ত্রী খুরশিদ জাহান হক দিনাজপুর সদরের জন্য অনেক উন্নয়ন করে গেছেন। আমি নির্বাচিত হলে দিনাজপুর সদরের উন্নয়নের জন্য কাজ করব। পাশাপাশি যেসব বড় বড় কল কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে সেগুলো চালু করার ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। দিনাজপুর জেলা কৃষি প্রধান জেলা। এই জেলায় কৃষি পণ্যের জন্য হিমাগার নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও জনগণ যাতে স্বাস্থ্য সেবা সহজে পায় সে বিষয়ে কাজ করবো।”
এ আসনে এবার নতুন ভোটার ১৪ হাজার ৪৫জন। বাদ পড়েছে ৬ হাজার ৩১৭ জন ভোটার। এই আসনে মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৯৮ ভোটার আগামী সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে দিনাজপুর নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে।