প্রকাশ: সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১:৩৯ পিএম আপডেট: ০৮.০৯.২০২৫ ১:৫৬ PM

প্রতীকী ছবি
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় তালতলা বাজারে জাতীয় দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিনের উপজেলা প্রতিনিধি মর্তুজা হোসাইন (৩২) এর উপর সন্ত্রাসী হামলা, অপহরণের চেষ্টা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক মর্তুজা হোসাইন তার স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে তালতলা বাজারে যান। এসময় তিনি পেট্রোল নেয়ার জন্য থামার পরপরই পৌর যুবদলের সদস্য বেল্লাল (৪২), পূর্ব রাজপাড়া গ্রামের চিহ্নিত চোরচক্র সদস্য ইমন (৩৫) ও হীরা খানসহ (৪৮) ৮-১০ জনের একটি সঙ্গবদ্ধ সন্ত্রাসী দল মোটরসাইকেলযোগে এসে তাকে জোরপূর্বক টেনে হিঁচড়ে উঠিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় প্রকাশ্যে মর্তুজার পকেট থেকে মোবাইল ফোন ও ২১ হাজারের বেশি টাকাসহ মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। তবে স্থানীয় জনতার প্রতিরোধে অপহরণে ব্যর্থ হয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এরপর খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাংবাদিক মর্তুজা হোসাইন জানান, কিছুদিন আগেই তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মিথ্যা অভিযোগ তুলে একদল সন্ত্রাসী চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই চক্র তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী আমেনা বেগম (৫২) ও হোটেল অংশীদার সুমি বেগমকে (৩৪) মারধর করে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি স্থানীয় গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচারিত হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই মর্তুজা হোসাইন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারে লিপ্ত হয় চক্রটি।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ এপ্রিল সুমি বেগম মঠবাড়িয়া থানায় ১৪ জনকে আসামি করে একটি চাঁদাবাজি মামলা ও একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন।
মর্তুজা হোসাইন বলেন, 'এই সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ গ্রুপটি জুলাই অভ্যুত্থানের পরে মঠবাড়িয়ায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এত মামলা থাকার পরেও তারা অজ্ঞাত কারণে অধরাই থেকে যাচ্ছে। তারা আমাকে গুম করতে চেয়েছিল, স্থানীয়দের তোপের মুখে তারা ব্যর্থ হয়। তাদের কুকর্মে অসফল হয়ে তারা আমাকে সামাজিকভাবে হেনস্থা করার জন্য আমি এবং আমার ব্যবসায়ী পার্টনারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।'
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো