প্রকাশ: রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:০০ AM আপডেট: ০৭.০৯.২০২৫ ১২:০২ এএম

ডাকসু নির্বাচনে সারাদেশের স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য প্রেশারাইজ করার অভিযোগও উঠেছে। সাধারণত ভোট চাওয়া সংস্কৃতির অংশ, যদিও সেটা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে হতে পারে। কিন্তু জোরজবরদস্তি কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শন করা তো ফ্যাসিবাদি আচরণ।
‘ডাকসু নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ঘটছে ভয়ংকর সব ঘটনা। শুধু ক্যাম্পাসের ভেতর নয়, বাইরে গিয়েও শুরু হয়েছে অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা।
তফসিল ঘোষণার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় নেতারা ভোট চাইছেন। এটি পুরোনো সংস্কৃতি হলেও এবার সেটি ছাড়িয়ে গেছে। এখন শিক্ষার্থীদের সরাসরি ফোন করে ভোট চাইছেন স্থানীয় শীর্ষ নেতারা। কারো কারো কাছে ঢাকায় দেখা করার নির্দেশও দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ভোট দেওয়ার জন্য প্রেশারাইজ করার অভিযোগও উঠেছে।
প্রশ্ন উঠেছে- এত শিক্ষার্থীর নাম্বার তারা পেল কোথায়? জানা গেছে, রেজিস্ট্রার ভবন ও হল প্রশাসনের কাছ থেকে নম্বর সংগ্রহ করে তা নেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। একজন ভোটার বিষয়টি জানতে চাইলে সরাসরি বলা হয়েছে, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস থেকেই নেওয়া হয়েছে।’
বিশেষত নারী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ভয়ংকর এক নিরাপত্তা ঝুঁকি। তাদের ব্যক্তিগত নম্বর এভাবে বাইরে চলে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী এ নিয়ে আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে, প্রেশারাইজ হয়ে ভোট দিবে না। এমনকি নিজ মা-বাবা দিয়েও যারা ভোট দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন তাদের কথাও না রাখতে পারেন। কাচ্চি বিরিয়ানি বা টাকা দিলেও মাথা বিকিয়ে দিবে না। ভোট দেওয়ার একমাত্র মাপকাঠি হবে প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা।
মনে রাখবেন, এটা এলাকার কোন ইউপি নির্বাচন নয়, এটা দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচন। যতই কিছুই করেন ভোট যাবে যোগ্য প্রার্থীর ব্যালটে।
লেখক: কলামিস্ট
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম