প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:২৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি
কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সারডোব গ্রামে ধরলা নদীর তীরে নির্মিত ৬২৯ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রায় ৩৫০ মিটার দীর্ঘ বাঁধটির অন্তত ৩০ মিটার অংশে সিসি ব্লকগুলো একের পর এক ধসে পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে ঝুঁকিতে পড়েছে আশপাশের সহস্রাধিক পরিবার এবং কয়েক হাজার হেক্টর আবাদি জমি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ধস ঠেকানোর চেষ্টা করছে। তবে, স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ প্রস্তুতি না থাকায় সিসি ব্লক পর্যাপ্ত পরিমাণে ফেলা হয়নি এবং সুরক্ষা দুর্বল ছিল, যার ফলে প্রবল স্রোতের আঘাতে বাঁধের স্থিতি টিকে থাকতে পারছে না।
সারডোব গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “এই বাঁধ আমাদের একমাত্র ভরসা। যদি এটা ভেঙে যায়, আমাদের ঘরবাড়ি ও কৃষি সবই ধ্বংস হয়ে যাবে।” তিনি আরও জানান, বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে প্রায়ই এমন বিপদের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
ধরলা প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালে শুরু হওয়া ৬২৯ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৯৭% শেষ হয়েছে। তবে নতুন বাঁধের ধস স্থানীয়দের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্না হক বলেন, “উজানে চর জেগে ওঠায় নদীর স্রোত সরাসরি বাঁধে আঘাত করছে, ফলে কিছু অংশ ধসে গেছে। আপাতত জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে এবং পানি কমে গেলে পুরোপুরি মেরামত করা হবে।”
এদিকে, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, প্রকল্পটি এখনও হস্তান্তর হয়নি, তাই বাঁধের যেকোনো ক্ষতির দায় ঠিকাদারের। তিনি বলেন, “বাঁধের পরিস্থিতি আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আবারও ২০২২ সালের মতো বড় ধরনের বন্যা ও ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো