প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৯:২৩ AM আপডেট: ০৫.০৯.২০২৫ ১১:৪৭ এএম

সংগৃহীত ছবি
২০২১ সালে আলোচনার ঝড় তোলা সেই লেখা, ‘হাড় নেই, চাপ দিবেন না’, আবারও দেশজুড়ে আলোচনায়। তখন যেমন হৃদয় ছুঁয়েছিল, প্রায় চার বছর পর আবারও একই লেখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে, নাড়া দিচ্ছে মানুষের আবেগকে।
ঘটনাটি প্রথম ঘটে ২০২১ সালের ২৯ অক্টোবর। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহাদি জে আকিব মারাত্মকভাবে আহত হন। মাথায় অপারেশনের পর তার খুলি রাখা হয় বাইরে। সাদা ব্যান্ডেজের ওপর লেখা হয়েছিল, ‘হাড় নেই, চাপ দিবেন না।’ পরে তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন।
প্রায় একই দৃশ্য আবারও দেখা গেল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি)। সম্প্রতি শিক্ষার্থী-গ্রামবাসীর সংঘর্ষে সমাজতত্ত্ব বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মামুন মিয়া (২৪) মাথায় গুরুতর আঘাত পান। অপারেশনে তার খুলিও সাময়িকভাবে সরানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সুস্থ আছেন, কথা বলতে পারছেন। তবে খুলিটি প্রতিস্থাপন করতে আরও দেড় মাস সময় লাগবে।
অন্যদিকে, একই ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ সায়েম (২৪) গুরুতর আহত হয়ে এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। পাঁচ দিন পেরোলেও তার জ্ঞান ফেরেনি। হাত-পা নড়াচড়া করতে পারছেন ঠিকই, তবে মাথায় জমাট বাঁধা রক্ত নিয়ে লড়াই করছেন তিনি। গতকাল তার তৃতীয়বার সিটি স্ক্যান করা হয়। বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি বোর্ড তার চিকিৎসা চালাচ্ছে।
সায়েমের বাড়ি কুমিল্লায়, পরিবার থাকে বগুড়ায়। ছেলের দুর্ঘটনার খবর শুনে বাবা আমির হোসেন ও মা শাহনাজ আমিন দ্রুত চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন। পার্কভিউ হাসপাতালের উপমহাব্যবস্থাপক মো. হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, সায়েমের অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে তুচ্ছ এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে চবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অসংখ্য শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ও অ্যাম্বুলেন্সে করে চমেক ও নগরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।