
সংগৃহীত ছবি
বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে এক অনন্য দৃশ্যের সাক্ষী হলো। ভরা গ্যালারি, অশ্রুসিক্ত উল্লাস আর পরিচিত নম্বর-১০। লিওনেল মেসি জানতেন, এটি তার দেশের মাটিতে শেষ অফিসিয়াল ম্যাচ। মাঠে প্রবেশ করেছিলেন সন্তানদের হাত ধরে, টানা করতালি আর সমর্থকদের হৃদয়ভরা ভালোবাসায়। পারফরম্যান্সেও ছিলেন অতুলনীয়, দুটি গোল ও একাধিক স্মরণীয় মুহূর্তে ভরিয়ে দিলেন রাতটিকে।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে মেসি বলেন, দেশের মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বার্সেলোনায় বহু বছর ভালোবাসা পেয়েছি, এখনো পাই। কিন্তু স্বপ্ন ছিল নিজের দেশে, নিজের মানুষের সামনে তা পাওয়ার। আজ সেই স্বপ্ন পূর্ণ হলো।
প্রথমার্ধের ৩৯ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজের দারুণ পাস থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন মেসি। সমর্থকদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়, ‘লিও মেসি আছে পাশে, পুরো পথ আমরা পাড়ি দেব একসঙ্গে।’
দ্বিতীয়ার্ধে লাউতারো মার্টিনেজের হেডে আসে দ্বিতীয় গোল, পরে থিয়াগো আলমাদার সঙ্গে বোঝাপড়ায় মেসির জোড়া গোল। শেষ স্কোর ৩-০। যদিও এক সময়ে চিপ শটের মাধ্যমে হ্যাটট্রিকের কাছাকাছি গিয়েছিলেন, কিন্তু অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।
পুরো রাত জুড়ে মেসির চোখে-মুখে ভেসে ওঠে আবেগ। ওয়ার্ম-আপের সময় থেকেই করতালির বন্যা তাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ম্যাচ শেষে সন্তানদের সঙ্গে দর্শকদের উদ্দেশে হাত নাড়তে গিয়ে প্রায় চোখ ভিজে উঠেছিল। স্ত্রী আন্তোনেলা ও পরিবারের সদস্যরা গ্যালারি থেকে প্রত্যক্ষ করেছেন সেই মুহূর্ত।
ম্যাচশেষে মেসি স্মরণ করেন কঠিন সময়ের কথাও। তিনি বলেন, অনেক বছর নানা সমালোচনা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি, কখনো সফল হয়নি। আজ সেসব ভেবেও গর্ব হয়, কারণ শেষ পর্যন্ত এই ভালোবাসা পেয়েছি।
ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নে উত্তর দেন তিনি, আগামী নয় মাস দ্রুত কেটে যাবে। আমার লক্ষ্য ফিট থাকা, দিন-দিন করে এগোনো। আজ যা পরিষ্কার, সেটি হলো এটাই দেশের মাটিতে আমার শেষ অফিসিয়াল ম্যাচ।
বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মেসির ঝুলিতে আছে কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমা, কোপা ইউএসএ এবং কাতার বিশ্বকাপের গৌরব। এবার যোগ হলো নিজের দেশে বিদায়ী রাতের অবিস্মরণীয় স্মৃতি।