প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:২৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি
ইসলামে মানুষকে সম্মান প্রদানের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে তা ব্যক্তির অবস্থান অনুযায়ী হওয়া উচিত এবং কখনো দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা প্রদানের অভ্যাস মুসলিম সমাজে সীমিত। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মানুষকে শ্রদ্ধা করতে এবং ছোটদের প্রতি স্নেহ প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্টভাবে দাঁড়িয়ে কাউকে অভ্যর্থনা জানানোর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।
হজরত মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি চাইবে লোকজন তার সম্মানে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা জানাক, সে যেন জাহান্নামের দিকে পথ তৈরি করছে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫২২৯)
অন্য একটি হাদিসে হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, সাহাবিদের মধ্যে নবীজি (সা.)-এর চেয়ে প্রিয় কেউ ছিল না, তবুও তাঁরা তাকে দেখে দাঁড়াতেন না, কারণ তারা জানতেন, তিনি এটি পছন্দ করেন না। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৭৫৪)
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) উল্লেখ করেছেন, সাহাবিরা সাধারণত মহানবী (সা.)-কে দেখে দাঁড়াতেন না। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে যেমন কেউ সফর থেকে ফিরলে, তাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা জানানোর রীতি দেখা যেত। খুলাফায়ে রাশেদিনের যুগেও কোনো ব্যক্তির সম্মানে দাঁড়িয়ে যাওয়ার রীতি ছিল না। কিন্তু আজকাল অনেক ক্ষেত্রে এটি দেখা যায়, যা ইসলামের আদর্শের পরিপন্থী।
তবে মেহমানকে অভ্যর্থনা জানানোর সময় কিছুটা নমনীয়তা আছে। যদি কোনো অঞ্চলের সামাজিক রীতিনীতিতে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা দেওয়া স্বাভাবিক এবং কেউ তা না করলে অপমানের ভাব প্রকাশ পায়, তবে সেখানে দাঁড়িয়ে যাওয়া উত্তম। এতে পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়, হিংসা ও মনোমালিন্য এড়ানো যায়।
কিন্তু যিনি সুন্নতসম্মত পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত, তার প্রতি দাঁড়িয়ে সম্মান না দেখানো কোনো অপমান নয়। কারণ হাদিসে যা বোঝানো হয়েছে, তা হলো একাধিক লোক দাঁড়িয়ে থাকবে আর একজন বসবে, সেই প্রসঙ্গে একক অবস্থান নয়। মূল ব্যক্তি সাধারণত দাঁড়িয়ে থাকেন।