প্রকাশ: বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:৫০ AM আপডেট: ০৩.০৯.২০২৫ ৮:৫৫ এএম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনেও বইছে ভোটের হাওয়া। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অফিস পাড়ায় সংসদ নির্বাচন নিয়ে চায়ের কাপের আড্ডা জমে উঠছে। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সালাউদ্দিন কামরান।
১৯৯৬ ও ২০০১ এর নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এডভোকেট মাহবুবুর রহমান, ২০০৯ সালে এই আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, ২০১৪-২০১৮-২০২৪ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এইচ এম ইব্রাহিম। এই সময়গুলোতে চাটখিল সোনাইমুড়ীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপকহারে অবকাঠামগত উন্নয়ন সম্পন্ন হয়। কিন্তু সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি।
১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আসনটি বিএনপির দখলে ছিল। ২০০৮ সালে এখানে নির্বাচিত হন দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন। এবারও তিনি ধানের শীষের কান্ডারি হতে চান, মনোনয়ন পাওয়ার জন্য চালাচ্ছেন বিভিন্ন তৎপরতা।
ব্যারিস্টার খোকন বলেন, ‘১/১১ এরপরে বিএনপির দুর্দিনে জিয়া পরিবারের পাশে থেকে দলের জন্য কাজ করেছি। আওয়ামী আমলে দলীয় নেতাকর্মীদের মামলা-হামলা ও জেল-জুলুমের বিরদ্ধে সোচ্চার থেকে আইনি লড়াই করেছি। সক্রিয় ছিলাম বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে। আমার অবদান ও ত্যাগের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে দল এবারও মনোনয়ন দেবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস আছে।’
এই আসনে বিএনপির অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন। তিনি বলেন, আওয়ামী দুঃশাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে জনগণের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।
এছাড়াও এই আসনে বিএনপি থেকে আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী এ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন কামরান। যিনি ১৯৯১ সালে ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি নোয়াখালী জেলা জজ কোর্টে বিজ্ঞ আইনজীবী। নোয়াখালী জেলা বিএনপি’র নবগঠিত আহবায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি তিনি নির্বাচনের মাঠ ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং নেতাকর্মীদের ধানের শীষ প্রতীকের জন্য কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
জামায়াত থেকে এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন মাওলানা মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। তিনি দলের জেলা শাখার মজলিসে শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য। জামায়াত তাকে প্রার্থী ঘোষণা দেওয়ার পরই বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন নির্বাচনের মাঠে। নিয়মিত সভা-সমাবেশসহ বিভিন্নভাবে চালাচ্ছেন প্রচার। অবাধ-সুষ্ঠু ভোট হলে তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
খেলাফত মজলিস থেকে সোনাইমুড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা আবদুল আজিজ এবং ইসলামী আন্দোলন থেকে জহিরুল ইসলাম কাউসার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে।
তবে এই আসনে এখন পর্যন্ত এনসিপির কোনো প্রার্থীর প্রচার প্রচারনা দেখা যায় নি। নোয়াখালী ১ আসনে ভোটার সংখ্যা ৫লাখ ৩৩ হাজার ৭শত ৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৫ হাজার ৯শত ৭১ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৭শত ৮৮ জন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম