প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:১৪ পিএম

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে একশ’ কোটির বেশি মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। সংস্থার তথ্যে, মানসিক স্বাস্থ্য সংকট বর্তমানে মহামারী আকার ধারণ করেছে। প্রতি ১০০ মৃত্যুর মধ্যে একটি মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত, যা বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশার গভীরতা তুলে ধরে।
ডব্লিউএইচও’র অ-সংক্রামক রোগ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ডেভোরা কেস্টেল বলেন, প্রতিটি আত্মহত্যার বিপরীতে ২০টি আত্মহত্যার চেষ্টা ঘটে। এসব কেবল জীবন শেষ করে না, বরং পরিবার, বন্ধু ও সমাজকে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ক্ষতি দেয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২১ সালে ১৫–২৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ ছিল আত্মহত্যা, আর একই বয়সের পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি তৃতীয় প্রধান কারণ।
২০০০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী আত্মহত্যার হার ৩৫ শতাংশ কমলেও, ডব্লিউএইচও-এর নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে এখনও পিছিয়ে রয়েছে। ২০১৫–২০৩০ সালের মধ্যে আত্মহত্যার হার এক-তৃতীয়াংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারিত হলেও, বর্তমান প্রবণতা অনুযায়ী তা মাত্র ১২ শতাংশ হ্রাস করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রে এই সময়ে আত্মহত্যার হার ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আত্মহত্যা ঘটছে নিম্ন-আয়ের দেশগুলোতে, যেখানে বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ বসবাস করে।
ডব্লিউএইচও সতর্ক করে জানিয়েছে, আত্মহত্যার হার ধীরে ধীরে কমলেও উদ্বেগ এবং হতাশার প্রাদুর্ভাব বিশ্বব্যাপী দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১১–২০২১ সালের মধ্যে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বিশ্ব জনসংখ্যার বৃদ্ধির চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট আরও গভীর হচ্ছে। এর পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং কোভিড-১৯ মহামারীকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগে স্থবিরতা লক্ষ্য করা গেছে। ২০১৭ সালের পর থেকে স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র দুই শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্যে ব্যয় হচ্ছে। হতাশা ও উদ্বেগে আক্রান্তদের মধ্যে মাত্র ৯ শতাংশ চিকিৎসা পান।
ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস বলেন, “মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পরিবর্তন করা এখন বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।”
সূত্র: ডব্লিউএইচও, এএফপি