
সংগৃহীত ছবি
বরিশালের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর স্রোত আগস্টের শেষভাগে কিছুটা স্তিমিত হলেও, সপ্তাহখানেকের মধ্যে আবার সাবেক রূপলাভ করেছে। সদ্য সমাপ্ত আগস্টে বরিশালের সরকারি হাসপাতালেই আরও দুই হাজার ৩১০ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন দুজন। এ নিয়ে গত ৫ মাসে বরিশালের সরকারি হাসপাতালগুলোতেই ১০ হাজার ৪৪১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন বলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে।
এখনও প্রতিদিন গড়ে সোয়াশ ডেঙ্গু রোগী সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছেন। স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে ইতোমধ্যেই ১০ হাজার ১২০ জন ডেঙ্গু রোগী ছাড়পত্র পেয়ে হাসপাতাল থেকে ঘরে ফিরেছেন।
তবে চিকিৎসকদের মতে, সরকারি হাসপাতালের বাইরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেশি। স্বাস্থ্য বিভাগ চলতি মাসে বরিশাল সন্নিহিত এলাকায় ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ে কিছুটা শঙ্কিত রয়েছে বলেও জানিয়েছে।
বিভাগীয় পরিচালক জানিয়েছেন, সাধারণত আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু নিয়ে বাড়তি সতর্কতা থাকে। যদিও আগস্টের শেষভাগে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি পরিলক্ষিত হলেও তা ছিল সাময়িক। গত বছরও সেপ্টেম্বরের শেষভাগ পর্যন্ত বরিশালে ডেঙ্গু রোগীর সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল।
চলতি বছরের এপ্রিলের শুরু থেকেই এডিস মশাবাহী ডেঙ্গু বরিশাল এলাকায় হানা দিয়েছে। মে মাসের মধ্যভাগ থেকে পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয়ে জুনের শেষভাগ পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয় ১২ জনের।
জুলাই মাসেও পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত থাকে। মাসের প্রথম ১৫ দিনে দুই সহশ্রাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তীকৃত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ১৩১ জনে উন্নীত হয়। এক মাসের মাথায় সংখ্যা পৌঁছায় সাড়ে ১০ হাজারে।
সেপ্টেম্বরের প্রথম দিনে দুপুর পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে ১১৯ রোগী ছাড়পত্র পেয়ে ঘরে ফিরেছেন। তখনও আরও ৩শতাধিক ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। শের-এ-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩ জন এবং জেলার অন্যান্য হাসপাতালে আরও ১৪ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত ১৯ জনের মধ্যে শের-এ-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই মারা গেছেন ১১ জন।
গত এক সপ্তাহে সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী এখনও এডিস মশা ও তার লার্ভা ধ্বংসে তৎপরতার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। এবারের পরিস্থিতি আগের বছরের তুলনায় ভিন্ন। এবার শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গু সংক্রমণ বেশি। এ অঞ্চলের অনেক গ্রামের ৬৮ শতাংশ বাড়িতেই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বারবারই বরিশাল সিটি করপোরেশনসহ সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে ডেঙ্গুর জীবানুবাহী এডিস মশা নিধনে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
তবে আর্থিক সংকট, ফগার মেশিন ও হ্যান্ড স্প্রোর অভাব, এবং প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এ অঞ্চলের পৌরসভাগুলোও মশক নিধনে তেমন ভূমিকা রাখতে পারছে না। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর পক্ষে এ ধরনের কার্যক্রমকে তারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন না। ফলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রকৃতই এখনো ভরসা বলেই মনে করছেন ওয়াকিবাহাল মহল।