প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২:২৩ পিএম আপডেট: ০২.০৯.২০২৫ ২:২৯ PM

সাম্প্রতিক নীলফামারিতে সেনাবাহিনীর গুলিতে এক গার্মেন্টস শ্রমিকের নিহত হওয়ার ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে- এই রাষ্ট্রের আইন, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার কি সবার জন্য সমান?
একদিকে রাজধানীর রাজপথে প্রকাশ্যে বোমাবাজি, হকিস্টিক ও স্ট্যাম্প হাতে সশস্ত্র মিছিল করেছে দেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। সেই কর্মসূচিতে নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো বাধা নেই, গ্রেপ্তারের তো প্রশ্নই ওঠে না। অথচ অন্যদিকে, বকেয়া বেতন আদায়ের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে নামা শ্রমিকের জন্য ব্যবহৃত হলো সরাসরি গুলি। প্রাণ হারাতে হলো একজন গরিব শ্রমিককে।
শুধু তাই নয়, সাধারণ শ্রমিকদের বেতনভাতা আদায়ের আন্দোলনকে ‘মব’ আখ্যা দিয়ে একে দমন করার চেষ্টাও দেখা গেছে। একইভাবে, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ বা সার্বভৌমত্ব রক্ষার দাবিকেও ‘মব’ হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের প্রবক্তা নুরুল হক নুরের ওপর হামলা তারই একটি দৃষ্টান্ত।
প্রশ্ন হলো, যখন সশস্ত্র রাজনীতির মিছিল হয়, বোমা ফাটানো হয়, সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলে- তখন যদি নিরাপত্তা বাহিনী চুপ থাকে, আর বিপরীতে শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ দাবি মেনে নিতে গুলি করা হয়-তবে তা কি পক্ষপাত নয়? শুধু পক্ষপাত নয়, বরং এটি কি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায় থেকেও সরে আসা নয়?
রাষ্ট্র যদি রাজনৈতিক স্বার্থে একপক্ষকে বরকত দেয় আর অন্যপক্ষের প্রতি কঠোর হয়, তবে তা কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে বৈষম্য নয়- এটি গরিব, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে একটি অন্যায় আচরণ।
এমন পরিস্থিতিতে জনতার দায়িত্ব শুধু নিরব দর্শক হওয়া নয়। প্রশ্ন তুলতে হবে, কথা বলতে হবে- কারণ রাষ্ট্রের মালিক জনগণ, এবং সেই জনগণের রক্ত ঝরার দায় এড়াতে পারে না কেউই।
লেখক : সাংবাদিক, যুগ্ম সদস্য সচিব-এনসিপি
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম