বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি ও পশুপালন অনুষদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে একক কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন।
এ প্রেক্ষিতে রবিবার (৩১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাডেমিক কাউন্সিলের সভা আয়োজন করে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কেবল একটি একক ডিগ্রি দাবি করলেও কাউন্সিল সভায় প্রশাসন বিএসসি ইন এনিমেল হাজবেন্ড্রি, ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) এবং কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর প্রস্তাব দেয়। শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে তাদের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করে দুপুর ১টার দিকে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় আড়াইশ শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
এরপর সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বহিরাগতদের হামলার শিকার হন। রাত সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত অনলাইন জরুরি সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সোমবার সকাল ৭টা থেকেই বেশ কিছু নারী শিক্ষার্থী ও প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হল ছাড়তে শুরু করেন। তবে সকাল ৯টা ১০ মিনিটের দিকে বিভিন্ন হল থেকে দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে কে. আর. মার্কেটে জড়ো হন। এসময় তারা ‘রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘রাজপথ ছাড়বো না’, ‘প্রশাসনের গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে’ সহ নানা স্লোগান দেন। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নেন।
বেলা সাড়ে ১১টায় আমতলায় সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনকারীরা ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন—
১. অবৈধভাবে দেওয়া হল ছাড়ার নির্দেশ দুপুর ২টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।
২. হলগুলোর সব ধরনের সুবিধা অব্যাহত রাখতে হবে।
৩. শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়া এবং শিক্ষকদের মদদে বহিরাগত দিয়ে হামলার দায়ে প্রক্টোরিয়াল বডিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে।
৪. বহিরাগত সন্ত্রাসীদের হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর ও নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনার জন্য উপাচার্যকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
৫. হামলার সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের নাম উল্লেখ করে (কৃষি অনুষদের আসাদুজ্জামান সরকার, তোফাজ্জল, শরীফ আর রাফি, কামরুজ্জামান; পশুপালন অনুষদের বজলুর রহমান মোল্যা; জেনেটিক্সের মুনির; ডেইরি বিজ্ঞানের আশিকুর রহমান) ও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
৬. একক কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবি অবিলম্বে মেনে নিতে হবে। তিনটি পৃথক ডিগ্রি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি না মানা হলে পুরো বাকৃবি লকডাউন ও ব্ল্যাকআউট করা হবে। “আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।”
বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, ভেটেরিনারি ও পশুপালন অনুষদের কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবিতে গঠিত কমিটির সুপারিশের আলোকে ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের সভার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।