
সংগৃহীত ছবি
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, 'আজকের সমাবেশে উপস্থিত হয়ে, আমরা আবারও দেখিয়ে দিলাম যে, বিএনপি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি। আমার বিশ্বাস, দক্ষিণ এশিয়ায় বিএনপির মতো বৃহত্তম দল আর নেই। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ছিল আমাদের সফলতার মূল চাবিকাঠি।'
বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রামের আলমাস হলের সামনে অনুষ্ঠিত র্যালির আগে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আমীর খসরু। র্যালির আয়োজন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে করা হয়।
আমীর খসরু বলেন, 'দেশের উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায়, আপনারা গ্রাম ও শহরের প্রতিটি এলাকায় খাল কাটার প্রকল্পে অংশগ্রহণ করুন। এটি পানি নিষ্কাশনের প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করবে এবং জলবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে সহায়ক হবে।'
তিনি জানান, তারেক রহমান সাহেব ৩০ কোটি গাছ লাগানোর মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছেন, এবং আমাদের সবাইকে এক হয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। এখানে শুধু নেতাদের নয়, সবার অবদান থাকবে। রাজনীতি এবং অর্থনীতির মধ্যেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, 'বিএনপি দেশের ঐক্য প্রতিষ্ঠা করেছে এবং জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গঠনের শপথ নিয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এটি বাস্তবায়িত হয়েছে এবং এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ একটি নতুন স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।'
বিএনপির এ নেতা জানান, তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, বাংলাদেশের জনগণের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। তারেক রহমান সাহেব বলেছেন, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসে এক কোটি মানুষের চাকরি নিশ্চিত করা হবে। এটি শুধু দেশীয় নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
'বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সাধারণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং শিক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে। সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য আর পকেট থেকে টাকা খরচ করতে হবে না। শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে,' উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, 'দেশের অর্থনৈতিক সেক্টরে যেমন শেয়ার বাজার, ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে উন্নয়ন হবে, তেমনি সবাই যাতে ব্যবসা ও চাকরির সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করা হবে। বাড়িতে বসে পণ্য উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করার ব্যবস্থাও করা হবে।'
স্বৈরাচারমুক্ত দেশে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্বে কাজ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “এটি শুধুমাত্র রাজনীতির গণতন্ত্রায়ন নয়, অর্থনীতিরও গণতন্ত্রায়ন করতে হবে। এতে দেশের প্রতিটি মানুষ উন্নয়নের অংশীদার হতে পারবে এবং নিজেদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারবে।”
খসরু বলেন, 'আমরা আরও অনেক বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছি, যার মাধ্যমে দেশের মানুষ সুখী এবং সমৃদ্ধ জীবন উপভোগ করবে। প্রথমত, আমাদের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। যদি কেউ নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে চায়, তবে তা গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলবে এবং দেশের জনগণের অধিকারকে ক্ষুন্ন করবে। তাই ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে আনা হবে।'
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো