প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ৩:৩২ পিএম

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ৩০ নম্বর সোনাবাজু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে। ভবনের ছাদে ফাটল, প্লাস্টার খসে পড়ছে, লোহার রড বেরিয়ে এসেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষে পানি ঝরে পড়ছে। এমন বিপজ্জনক পরিবেশে প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যেই ক্লাস করছে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
১৯৪২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ের বর্তমান একাডেমিক ভবনটি ২০০১ সালে নির্মিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল। মাত্র ২৩ বছর বয়েসের ভবনটি এখন অতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সম্প্রতি অতিবৃষ্টির সময় তৃতীয় শ্রেণির কক্ষে সিলিং ফ্যান ভেঙে পড়লে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়।
বিদ্যালয়ের ভেতরে প্লাস্টার ও বিম খসে পড়ছে, দেয়াল ও ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে পাঠদান করছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ২১১ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। যদিও শিক্ষক থাকার কথা ৮ জন, এখন আছেন মাত্র ৫ জন। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে প্রধান শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। তাই নানা সংকটের মধ্যে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম।
বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস মাসুমা বলেন, ‘প্রতিদিন ভয়ে ক্লাস করতে হয়। যে কোনো সময় ছাদ বা পলেস্তরা খসে পড়তে পারে।’ অভিভাবক এসএম শফিকুল ইসলাম জানান, ঝুঁকি নিয়ে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে দ্বিধায় রয়েছেন। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও শূন্যপদে নিয়োগের দাবি করেছেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মজনুর রহমান বলেন, ‘নিম্নমানের কাজের কারণে আজ এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কিছুদিন আগে তৃতীয় শ্রেণির কক্ষে বৈদ্যুতিক ফ্যান ভেঙে পড়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। শিক্ষকের ঘাটতি থাকায় পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে।’ তিনি দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জোনাব আলী জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। কিছু স্থানে সংস্কার কাজ করা হবে, আর কোথাও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম