প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫, ৯:৪৮ পিএম

পুলিশের কাছ থেকে লাঠি কেড়ে নিয়ে দুর্জয় (১৮) নামের এক তরুণকে পেটানোর ঘটনায় নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুয়েল সাংমাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদের স্বাক্ষরিত এক আদেশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
আদেশ অনুযায়ী, রুয়েল সাংমাকে আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদ থেকে প্রত্যাহার করে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্রের বরাতে জানা যায়, গত ২৪ মার্চ, কোরবানির ঈদের আগে একটি ইউনিয়ন কার্যালয়ে ভিজিএফের চাল বিতরণ চলছিল। একপর্যায়ে চাল নিতে আসা লোকজনের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। অনিয়মের খবর পেয়ে ইউএনও রুয়েল সাংমা সেখানে উপস্থিত হন। তখন ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে চাল নিতে আসা ১৭ বছরের এক কিশোর ইউএনওর গায়ে পড়ে যান। এরপর ইউএনও তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে ওই কিশোরকে মারধর করেন।
এ ঘটনায় ভাইরাল হওয়া ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ভিড়ের মধ্যে ইউএনও রুয়েল সাংমা এক কিশোরকে মারধর করছেন। ভিডিওতে আনসার ও পুলিশ সদস্যদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। কেউ কেউ ইউএনওকে থামাতে চেষ্টা করলেও তিনি মারধর চালিয়ে যান। এক পর্যায়ে ইউএনও নিজেও পড়ে যেতে দেখা যায়।
পরে কিশোরটির চাচী মুচলেকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনেন। ভয়ে দুর্জয় ও তার অসচ্ছল পরিবার ঘটনার বিষয়ে নীরব থাকে।
তবে ধীরে ধীরে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাইরাল হয়।
অভিযুক্ত ইউএনও অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কাউকে মারধর করেননি; বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
ভুক্তভোগী দুর্জয় বলেন, ‘আমার মা হুসনা আক্তার অসুস্থ আছিল। আমি সেদিন দুপুর ১২টার দিকে ভিজিএফের চাল আনতে গেছিলাম। লোকজনের ঠেলাঠেলিতে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বাঁশের বেড়া খুলে যায়, তখন আমি সামনে গিয়ে পড়ে যাই। এই সময় ইউএনও স্যার এসে আমাকে মারধর করেন। পরে আমাকে চারটা পর্যন্ত আটকে রেখে একখান কাগজে স্বাক্ষর করায় ছেড়ে দেন।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম