বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
স্ক্যাবিস ও দাদ রোগের প্রকোপ বাড়ছে কেন?
ডা. কাকলী হালদার
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫, ১০:৪৭ AM
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

স্ক্যাবিস হলো এক প্রকার পরজীবী মাইট (Sarcoptes scabiei) দ্বারা সৃষ্ট ত্বকের সংক্রমণ। এই মাইট ত্বকের উপরের স্তরে গর্ত খুঁড়ে সেখানে ডিম পাড়ে, ফলে ছোট ছোট লালচে ফোসকা ও চুলকানি হয়। বিশেষ করে রাতে বা গরম পানির সংস্পর্শে চুলকানি বেড়ে যায়। সাধারণত আঙুলের ফাঁকা, কব্জি, কনুইয়ের ভাঁজ, বগল, কোমর, নাভি এবং যৌনাঙ্গের চারপাশে বেশি দেখা যায়। ছোট বাচ্চা ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে মুখ, ঘাড়, হাতের তালু ও পায়ের তলাও আক্রান্ত হতে পারে।

ক্রাস্টেড স্ক্যাবিস হলো এই রোগের গুরুতর রূপ, যা দুর্বল প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে দেখা যায়। এতে ত্বকে পুরু, খসখসে আবরণ তৈরি হয় এবং প্রচুর মাইট থাকে।

চিকিৎসার জন্য পারমেথ্রিন ৫% ক্রিম সবচেয়ে কার্যকর। সাধারণত রাতে গোসলের পর পুরো শরীরে লাগানো হয় এবং ৮–১৪ ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলা হয়। প্রয়োজনে ৭ দিন পর পুনরায় ব্যবহার করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে ওরাল আইভারমেক্টিন এবং চুলকানি কমানোর অ্যান্টিহিস্টামিনও দেওয়া হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহারিক জিনিসপত্র যেমন কাপড়, তোয়ালে, চাদর গরম পানিতে ধুয়ে শুকানো জরুরি। পরিবারের সকল সদস্যকেও একই সাথে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অঞ্চলে মাইট পারমেথ্রিন এবং আইভারমেক্টিনের প্রতি রেজিস্ট্যান্স বা প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করেছে। এর প্রধান কারণ হলো ভুল ডোজ বা অসম্পূর্ণ চিকিৎসা এবং মাইটের জিনগত পরিবর্তন। এর ফলে চিকিৎসার কার্যকারিতা কমে গেছে এবং পুনঃসংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়েছে।

ডারমাটোফাইটস বা দাদ হলো এক প্রকার ছত্রাক, যা ত্বক, চুল ও নখ সংক্রমণ সৃষ্টি করে। দাদ আক্রান্ত স্থানে গোলাকার বা আংটির মতো লালচে দাগ তৈরি হয়। সংক্রমণের অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের দাদ দেখা যায়:

Tinea corporis: শরীরের যে কোনো স্থানে গোলাকার, চুলকানি যুক্ত দাগ।

Tinea pedis: পায়ের আঙুলের ফাঁকে দাদ বা অ্যাথলেটস ফুট।

Tinea cruris: কুঁচকি, ঊরু এবং নিতম্বের ভাঁজে চুলকানি ও লালচে দাগ।

Tinea capitis: মাথার ত্বকে দাদ, চুল পড়া, আঁশযুক্ত ত্বক।

Onychomycosis: নখ মোটা, ভঙ্গুর ও বিবর্ণ।

চিকিৎসার জন্য টপিক্যাল অ্যান্টিফাঙ্গাল যেমন ক্লট্রিমাজল, মাইকোনাজল, টার্বিনাফাইন ব্যবহার করা হয়। সংক্রমণ বিস্তৃত হলে ওরাল অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ যেমন টার্বিনাফাইন, ইট্রাকোনাজল বা গ্রাইসিওফুলভিন ব্যবহার করা হয়।

দাদ প্রতিরোধে শরীর এবং ত্বকের ভাঁজ শুষ্ক রাখা, আঁটসাঁট পোশাক এড়িয়ে চলা, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ভাগ না করা, এবং পাবলিক শাওয়ার, সুইমিং পুল বা জিমে স্যান্ডেল ব্যবহার জরুরি।


বাংলাদেশে স্ক্যাবিস এবং দাদ উভয়ই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, বস্তি, রোহিঙ্গা শিবির, মেস ও হোস্টেলে ঝুঁকি বেশি। ভুল বা অসম্পূর্ণ চিকিৎসা এবং ওষুধের প্রতি রেজিস্ট্যান্স পরিস্থিতি আরও জটিল করছে। স্ক্যাবিস untreated থাকলে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ বা কিডনির সমস্যা হতে পারে। দাদ দীর্ঘস্থায়ী হলে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উভয় রোগই মানুষের দৈনন্দিন জীবন, কর্মক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতায় প্রভাব ফেলে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সঠিক রোগ নির্ণয়, কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি।

স্বদেশ প্রতিদিন/এমএএম



আরও সংবাদ   বিষয়:  স্ক্যাবিস   দাদ   






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close