বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
দখল চাঁদাবাজি নারী কেলেংকারীতে জড়িয়ে পড়েছে জামায়াত নেতারা
ফাটা বাঁশে জামায়াত
উমর ফারুক
প্রকাশ: রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫, ৯:৫৪ পিএম আপডেট: ১৭.০৮.২০২৫ ৯:৫৭ PM
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার হাতে নিষিদ্ধ হয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জঙ্গি ও সন্ত্রাসী সংগঠণ আখ্যা দিয়ে গত বছরের ১ আগস্ট জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকাররে পতন হয়। তার দুদিন পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র-শিবিরকে নিষিদ্ধে জারি করা আগের প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হয়। এরপরেই পাল্টে যায় জামায়াত ও তার অঙ্গসহযোগী সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। দীর্ঘদিন কোণঠাসা হয়ে পড়ে থাকা নেতাকর্মীরা অনেকটা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেন। ঢাকাসহ সারাদেশে যাকে তাকে হুমকি দেওয়া, দখল, চাঁদাবাজি, শারীরিক নির্যাতন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ, এমনকী নারী কেলেংকারীর মতো র্স্পষকাতর ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়েন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। এসব ঘটনার ভিডিওসহ তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর জামায়াতে কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে আসে। জামায়াত সদর দপ্তর থেকে ঘটনার যাচাই-বাচাই করা হয়। ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। শান্তি হিসেব সংগঠন ও পদ থেকে বহিস্কারও করা হয়। তবে, ঢাকাসহ সারাদেশে জামায়াতের নেতারা এমন বেপরোয়া হওয়ায় দলের আদর্শিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয় চরমভাবে। ইসলামী দল হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়া দলটির ইমেজের পতন হয় অনেকটা পুজিবাজারের মতো। এনিয়ে ফাটাবাশের চিপায় পড়েছে দলটি। কেননা, প্রভাব পড়েছে তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারন মানুষের মধ্যে। এসব ঘটনায় জামায়াতের হাইকমান্ড বিব্রত বলে দলের সিনিয়র নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে। 

খোজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান সময়ে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা সিলেটের ভোলাগঞ্জে সাদা পাথর চুরি। এ ঘটনায় দেশে বিদেশে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। এ ঘটনায় থানা পুলিশ দুদক নড়েচড়ে বসে। এমনকী দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয় হাইকোর্ট ও নির্দেশে দিয়েছে।  
গত ১৪ আগষ্ট বৃহস্পতিবার  জামায়াত নেতার গদি থেকে  চুরি হওয়া ৪০ হাজার ঘনফুট সাদা পাথর উদ্ধার করেছে আইনশৃংখলাবাহিনী। ঢাকার ডেমরায় জামায়াত নেতা মো. রহমতের তাহমিত স্টোনক্সাসার নামের ৭টি পাথরের গদি থেকে ভোলাগঞ্জের ৪০ হাজার ঘনফুট সাদা পাথর উদ্ধার করেছে র‌্যাব। অভিযানে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগিতাও নেওয়া হয়। ভোলাগঞ্জ এলাকা থেকে সম্প্রতি প্রায় ২ লাখ ঘনফুট সাদা পাথর ও ৬ লক্ষ ঘনফুট বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করা হয়েছে। এর বাজারমূল্য প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা। র‌্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অবৈধভাবে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ পাথর অনেকাংশে মেশিনে ক্রাশ করা হয়েছে। ৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে পাথর জব্দ করা হয়েছে এবং মালিকদের তালিকা করা হয়েছে।

এদিকে, কক্সবাজার সদরের ভারুয়াখালীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জামায়াত নেতার হামলায় বিএনপি নেতা রহিম উদ্দিন সিকদার (৫৫) নিহত হয়েছেন। তিনি ভারুয়াখালী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও যুবদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। গত ১৩ জুলাই রাতে ফাতেরঘোনা এলাকায় হামলার শিকার হন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ১৫ জুলাই সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরিবার ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, হামলার নেতৃত্ব দেন ফাতেরঘোনা ইউনিট জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি আব্দুল আল নোমান, তার জামাতা মিজান, মুজিব, এনামসহ আরও কয়েকজন। হামলাকারীরা লাঠি, রড ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে বলে জানান নিহতের ভাই শফিকুর রহমান, যিনি ভারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তবে, কক্সবাজার সদর উপজেলা জামায়াতের আমির খোরশেদ আলম দাবি করেন, এটি মসজিদের জমি নিয়ে স্থানীয় বিরোধ, রাজনৈতিক ঘটনা নয়। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াত নেতার হামলায় এই হত্যাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

গত ৬ আগষ্ট বুধবার যশোরের কেশবপুর থানা এলাকায় পুলিশ সদস্যদের হুমকি ও হট্টগোলের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন জামায়াত নেতা অজিয়ার রহমান। তিনি জামায়াতকেন্দ্রিক পেশাজীবী পরিষদের কেশবপুর উপজেলার সভাপতি। অতীতে তিনি ছাত্রশিবিরের যশোর জেলা পূর্ব শাখার সভাপতি ছিলেন এবং যশোর আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পুলিশ সূত্র জানায়, অজিয়ার রহমানের এক আত্মীয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি থানায় গিয়ে পুলিশকে হুমকি দেন এবং হট্টগোল সৃষ্টির চেষ্টা করেন। থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মকলেসুর রহমান অভিযোগ করে মামলা করেন। গত বুধবার সকালেই তাকে যশোর শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিকেলে তিনি জামিনে মুক্তি পান। ঘটনার পর তাকে জামায়াতের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গত ১৬ জুলাই বুধবার কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় মাহবুব আলম মুন্সী, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি, একটি অফিস কক্ষে উপজেলা প্রকৌশলীকে লাথি মারার হুমকি দেন। মঙ্গলবার বিকেলে এই ঘটনার ২১ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ তার চেয়ারে বসে আছেন এবং মাহবুব আলম মুন্সীসহ কয়েকজন উনাকে উচ্চ বাক্যে হুমকি দিচ্ছেন। মাহবুব আলম মুন্সী ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, রাস্তার বেহাল অবস্থার বিষয়টি প্রশাসনকে বোঝাতে গিয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠেছি। প্রকৌশলী আমাকে গড়িমসি শুরু করলে আমি উত্তেজিত হয়ে হুমকি দিয়েছি। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

গত ২৮ জুলাই সোমবার সিলেটের ওসমানীনগরের মাহবুবুর রহমান (৩২) নামের এক ব্যক্তি নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ও জামায়াত নেতা পরিচয় দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের হুমকি দেন। তিনি সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি ও অফিস ঘেরাওয়ের হুমকি দেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দুই মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। উপজেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, মাহবুবুর নানা সময় কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিভিন্ন জমি সংক্রান্ত কাজে বাধা দিত। সে কার্যক্রমে ব্যর্থ হলে অফিসে ভাঙচুর ও হুমকির অভিযোগও পাওয়া গেছে।
অপরদিকে, গত ২৮ জুলাই সোমবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমেদকে মো. গিয়াস উদ্দিন রুবেল, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ফটিকছড়ি পৌরসভা শাখার সাধারণ সম্পাদক, হুমকি দেন। রুবেল বলেন, কোনো অবস্থাতেই জামায়াত নেতাদের ধরা যাবে না। ওয়ারেন্ট থাকলেও নয়। পুলিশের কাছে উপস্থিত হলে তাকে সতর্ক করা হলেও তিনি হুমকি প্রদান চালিয়ে যান।

গত ১৮ জুলাই শুক্রবার কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলায় ব্যবসায়ীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে জামায়াত নেতা আনিছুর রহমানকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। জামায়াতের রাজিবপুর উপজেলা শাখা সেক্রেটারি মো.আজিজুর রহমানের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। আনিছুর রহমান জামায়াতের সহযোগী সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রাজিবপুর উপজেলার সভাপতি ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের একটি মামলা থেকে ব্যবসায়ীকে অব্যাহতি দেওয়ার নাম করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এই ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ও অডিও রেকর্ড ভাইরাল হয়।  ৩ জুন বৃহস্পতিবার  ফেনীতে ওসি মর্ম সিংহ ত্রিপুরার নাম ব্যবহার করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে জাকির হোসেন (৪০) এবং তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তারা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা একটি মামলার চার্জশিট থেকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বাদ দিতে ওসির নাম ব্যবহার করে চাঁদা আদায় করেন। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় রেজাউল করিম রিপন নামের স্থানীয় জামায়াত নেতাকে চাঁদাবাজির অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করলেও শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন।

গত ৯ মে শুক্রবার  রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সাবেক জামায়াত নেতা আবুল হাসনাত রতন (৪৮) গ্রেপ্তার হয়েছেন। এক নারী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন এবং ধর্ষণের অভিযোগে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়েরের পর র‌্যাবের সহযোগিতায় তাকে ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকা থেকে আটক করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। 
গত ২১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ঝিনাইদহের মহেশপুরে ১০ বছরের এক কন্যা শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় জামায়াত নেতা মসলেম উদ্দিনকে গ্রামবাসী আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। গত ২০ জানুয়ারি সকালে উপজেলার কুসুমপুর স্বরুপপুর কওমি মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মসলেম উদ্দিন ওই গ্রামের মৃত ইলাহি বক্সের ছেলে। তিনি স্বরুপপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর প্রচার সম্পাদক। স্থানীয়রা জানায়, মসলেম উদ্দিনের একটি মুদি দোকান রয়েছে। তিনি ওই শিশুর কাছে অল্পকিছু টাকা পেতেন। সেই টাকা চাওয়ার কথা বলে মাদরাসার একটি কক্ষে ওই শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে আশপাশের এলাকার লোক ওই কক্ষে গিয়ে তাদের বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পায়। পরে মসলেম উদ্দিনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

স্বরুপপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জুলফিকার আলী বিশ্বাস বলেন, ওই এলাকার লোকজন মসলেমকে আটক করে। আমি ঘটনাটি জানার পর মহেশপুর থানার ওসিকে জানায়। পরে পুলিশ এসে মসলেমকে নিয়ে যায় এ ব্যাপারে মহেশপুর থানার ওসি ফয়েজ উদ্দিন মৃধা বলেন, ওই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মসলেম উদ্দিন নামের এক জামায়াত নেতাকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। 

এদিকে গত ১৭ জুন মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারীতে অবসরকালীন ভাতার ভুল কাগজে স্বাক্ষর না দেওয়ায় উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইদুজ্জামানকে মারধর করেছে  রৌমারী সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আনোয়ার হোসেন।ওইদিন  দুপুর ২টার দিকে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের ভেতরে এ মারধরের ঘটনা ঘটে। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ক্যাশিয়ার রাজা মিয়া। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স রৌমারী সদর ইউনিয়নের কলেজপাড়া এলাকার আতোয়ারা খাতুনের স্বামী কাদের মোল্লা একজন জামায়াত নেতা। ওই দিন দুপুরে জামায়াতের নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর স্ত্রীর অবসরকালীন ভাতার কাগজপত্রসহ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে যান। আলোচনার এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইদুজ্জামানকে মারধর করেন তারা। এ সময় ওই কর্মকর্তাকে রক্ষা করতে গিয়ে মারধরের শিকার হন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ক্যাশিয়ার রাজা মিয়া। ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হায়দার আলী, সাবেক আমির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, মাওলানা শহীদ মাসুদ, আনোয়ার হোসেন, মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা জামায়াতের আমির হায়দার আলী জানান, ওই নার্সের স্বামী তাদের দলের একজন কর্মী। তাঁর স্ত্রীকে বিল প্রদান না করে হয়রানি করছিলেন ওই কর্মকর্তা। এ জন্য দলের কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে যান। এতে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয়। 

এদিকে, ভিডব্লিউবি (ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট) কার্ড নিয়ে দুর্নীতি এবং এক নারীর সাথে মুঠোফোনে অশালীন ভাষায় কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আকরাম হোসেন পলাশ নামে এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি কার্ডে তিনি দুই হাজার টাকা করে উৎকোচ নিচ্ছিলেন। এ নিয়ে রেকর্ডকৃত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। 
অভিযোগ অস্বীকার করে ওই জামায়াত নেতার দাবি, অডিওতে কণ্ঠ তার হলেও, কিছু কথা এডিট করে বানানো হয়েছে। তবে, বিভিন্ন মাধ্যমে অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা করে অডিওর সত্যতা মিলেছে। অডিওটি এই প্রতিনিধির মাধ্যমে সংরক্ষিত আছে। সম্প্রতি পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ড শ্রীকান্তপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গত ৮ জুলাই মঙ্গলবার অডিওটি ভাইরাল হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অভিযুক্ত আকরাম হোসেন পলাশ শ্রীকান্তপুর গ্রামের মো. আলাউদ্দিন খানের ছেলে এবং দেবোত্তর ইউনিয়ন জামায়াতের প্রচার সম্পাদক। ভুক্তভোগী নারীও একই গ্রামের বাসিন্দা।

ভাইরাল হওয়া ২ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডের ওই অডিওতে শোনা যায়, এক নারী তার কার্ড করার জন্য ওই জামায়াত নেতা আকরাম হোসেন পলাশকে ফোন দেন। প্রথমে ওই নারীর পরিচয় জানার পর পলাশ বলেন, আরে, কী খবর, দেখা করার কথা বলছিলাম, সাঁজের বেলা দেখা করেন। কিন্তু দেখা করলেন না তো ভাবী। এরপর জামায়াত নেতা পলাশ ওই নারীকে কিছু অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলেন। ওই নারীর সাথে কথা বলার মাঝে তাকে লাইনে রেখেই অন্য একজনের সাথে কথা বলেন পলাশ। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, যতই টাকি মাছ দেন আর যা দেন, দুই হাজার টাকার নিচে কাম হবে না। তিনি কাউকে দুটি কার্ড করে দেবার কথা বলে চার হাজার টাকা দাবি করছেন। আবার এক কার্ডে দুই হাজার করে লাগবে বলে জানান। এভাবে কথা শেষ করার পর আবার ওই নারীর সাথে কিছু সময় কথা বলেন। সেখানে ওই নারী কার্ডের জন্য ভোটার আইডির ফটোকপি পলাশের বাড়িতে দিয়ে আসছেন বলে তাকে জানান। পলাশ তাকে বলেন, আমি তো সব কাগজ জমা দিয়ে আসছি। তারপরও চেষ্টা করবোনে, না হলে কিছু মনে কইরেন না।

এদিকে, এ ঘটনায় দেবোত্তর ইউনিয়নসহ পুরো আটঘরিয়া উপজেলায় ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষ এমন অনৈতিক ও দায়িত্বহীন আচরণে হতাশ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত দেবোত্তর ইউনিয়ন জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আকরাম হোসেন পলাশ বলেন, আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ওই অডিওতে আমার কথা এডিট করে বানানো হয়েছে।

স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর


আরও সংবাদ   বিষয়:  দখল   চাঁদাবাজি   নারী   কেলেংকারী  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close