| শিরোনাম: |

সংগৃহীত ছবি
জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য ইমাম থাকা আবশ্যক। ইমাম ছাড়া জামাতের নামাজ আদায় হয় না। ইমামতির জন্য কিছু বিশেষ গুণ থাকা জরুরি—যেমন কোরআন সহিহভাবে পড়া, নামাজ ও শরিয়তের মাসআলার জ্ঞান থাকা, সচ্চরিত্রবান হওয়া এবং শারীরিক পবিত্রতা বজায় রাখা।
আমাদের সমাজে সাধারণত সুস্থ ও দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিরাই ইমাম হন। তবে শরিয়তে অন্ধ হওয়া ইমামতির ক্ষেত্রে কোনো বাধা নয়। যদি কোনো অন্ধ ব্যক্তির মধ্যে ইমামতির জন্য প্রয়োজনীয় গুণাবলি থাকে, তবে তিনি ইমাম হতে পারেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে এর দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। তাবুক যুদ্ধের সময় নবী (সা.) অন্ধ সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.)-কে মসজিদে নববীতে ইমামতির দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
হাদিসে ইমামের মর্যাদা ও দায়িত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে—
হজরত উকবা ইবনে আমের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি সঠিক সময়ে লোকদের নিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করাবে, সে নিজে ও মুকতাদিরা উভয়ই পূর্ণ সওয়াবের অধিকারী হবে। আর যদি ইমাম সঠিক সময়ে নামাজ আদায় না করে, তবে এর দায় তার ওপর বর্তাবে; মুকতাদিরা পূর্ণ সওয়াব পাবে (আবু দাউদ, হাদিস : ৫৮০)।
এ ছাড়া নবী (সা.) দোয়া করেছেন— হে আল্লাহ! তুমি ইমামদের সঠিক পথে পরিচালিত করো—অর্থাৎ শরিয়তের জ্ঞান ও সঠিক মাসআলার দিকে পরিচালিত করো। আবার মুয়াজ্জিনদের জন্যও দোয়া করেছেন—হে আল্লাহ! তুমি মুয়াজ্জিনদের ক্ষমা করো (তিরমিজি : ২০৭)।
অতএব, শরিয়তের দৃষ্টিতে অন্ধ ব্যক্তি ইমাম হতে পারবেন, যদি তার মধ্যে ইমামতির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা বিদ্যমান থাকে।