
দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ২০/২৫টি পরিবার
ফরিদপুরের মধুখালীতে অপরিকল্পিত খাল খনন করায় ঘরবাড়ি রাস্তা ধসে জনদুর্ভোগে পাড়ের মানুষ।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সরেজমিনে পরিদর্শনে খাল খননের মাটি ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ স্থানীয়দের। ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কা খাল পাড়ের বসতিদের। খালের অতিরিক্ত মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে ইট ভাটায়। এতে কয়েকটি ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ২০/২৫টি পরিবার। বের হতে পারছেন না বাড়ি থেকে।
এছাড়া ধসে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে পাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। উপজেলার আড়পাড়া টোলঘর থেকে জামারপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ১২কিলোমিটার সড়ক। সবে কার্পেটিং এর কাজ শেষ হয়েছে সড়কের। বিভিন্ন স্থানে এরই মধ্যে ফাটল ধরে ডেবে গেছে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন উপজেলার পশ্চিম আড়পাড়া গ্রামের খালের পাড়ের বাসিন্দারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ‘ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় ৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মধুখালী উপজেলার আড়পাড়ার ইউনিয়নের গড়িয়াদহ খালের প্রায় সোয়া ৩ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের কাজ করা হয়েছে। সীমানা জটিলতায় গড়াই নদীর সংযোগস্থলে প্রায় ১শ মিটার খনন করা সম্ভব হয়নি। পাড়ে উত্তোলন করা মাটি নিলামে দরপত্র দেয়া হয়।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বিভাগের খাল পুনঃখননের মাটি অপসারণের জন্য উন্মুক্ত নিলাম দরপত্র ক্রয় করেন এলাকার কিছু প্রভাবশালী লোক। সেই অতিরিক্ত মাটি কেটে বিভিন্ন ভাটায় বিক্রি করছেন তারা। এতে করে রাস্তাসহ বাড়িঘর ধসে পড়েছে। খাল খননের মাটি ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ, বসতভিটা হারানোর শঙ্কা ক্ষতিগ্রস্তদের।
সুরুজ মোল্যা বলেন, “এলাকার প্রভাবশালী লোকজন অতিরিক্ত মাটি কেটে আমাদের ক্ষতি করছেন। আমরা অনেকবার চেষ্টা করেছি মাটি যাতে না কাটা হয়। কিন্তু তারা আমাদের বলেছেন আমরা উপজেলা থেকে মাটির টেন্ডার এনেছি।”
ভুলু বেগম ও রানু বেগম বলেন, “আমাদের বাড়ির সাথে খাল। আমার রান্নাঘর টয়লেট খালে ধসে পড়েছে, থাকার ঘরও যাবে প্রায়। নিয়ম মেনে মাটি কাটলে আমাদের এই ক্ষতি হতো না।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা মো. সাহেব আলী শেখ ও বাবু শেখ বলেন, “প্রয়োজনের চেয়েও বেশি গভীর করে কাটা হয়েছে খাল। খালের মাটি বেকু দিয়ে গভীর করে কেটে পাড়ে স্তূপ করে রাখা হয়।
আরো জানা যায়, সালাম শেখ নামের এক স্থানীয়ের ঘর খালে ধসে পড়েছে। বর্তমানে তিনি তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে অন্যত্র ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছেন।
খাল খননের মাটি ইটভাটা ও স্থানীয় ভাবে বিক্রির অভিযোগ এবং রাস্তা ও বসতভিটা হারানোর শঙ্কার বিষয়ে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু রাসেল বলেন, “রাজবাড়ি পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী খালের অতিরিক্ত মাটি সাইড থেকে অপসারণের জন্য আমাকে চিঠির মাধ্যমে জানান। আমি উন্মুক্ত নিলাম দরপত্র করে অতিরিক্ত মাটি অপসারণের দরপত্র দেই। এরপর রাজবাড়ি পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল খননের যে ডিজাইন সেভাবে কাটা হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “বাড়িঘর ও রাস্তা ক্ষতির বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাদের আপদকালীন সহায়তার জন্য ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। খালপাড়ের মানুষের বাড়িঘর রক্ষার্থে উপজেলা পরিষদ থেকে কিছু অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মহোদয়কে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তিনি সহযোগিতার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।”
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাজবাড়ি উপবিভাগীয় প্রকৌশলী উত্তম কুমার পোদ্দারের মোবাইলে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, নিয়ম মেনেই খাল খনন করা হয়েছে। কোন অনিয়ম করা হয় নাই। খননে খালে স্লোপ থাকার কথা কিন্তু স্লোপ না থাকায় খাড়া হয়ে যায়, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পাড় ভেঙে ধসে যায়। সে কারণে কিছু বাড়ি ধসের কবলে পরেছে। উপর মহলে ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে, বরাদ্দ পেলে মেরামত করে দেওয়া হবে। খাল পাড়ের মানুষের দুঃখ লাগভে আমরা চেষ্টায় আছি। মামলা ও আইনি জটিলতার কারণে গড়াই নদীর সংযোগস্থলে প্রায় ১শ মিটার খাল খনন করা হয় নাই।
রাস্তা ধসের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. সোহেল রানা মোবাইলে বলেন, “১২ কিলোমিটার সড়ক প্রায় ২০ কোটি টাকায় নির্মাণ করা হয়েছে। খাল খনন ও অতিবৃষ্টির কারণে খাল এলাকায় বিভিন্ন স্থানে সড়ক ধসে খালের গর্ভে যায়। বর্তমানে ভাঙা সড়ক এলাকা মেরামতের কাজ চলছে। এলজিডিই-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দল খাল এলাকায় সড়ক ভাঙন স্থান পরিদর্শন করেছেন।”