
সংগৃহীত ছবি
রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থানে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীতে জেগে ওঠা চরগুলো প্লাবিত হয়েছে। চরবাসীরা তাদের গবাদি পশু ও মালপত্র নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন।
গতকাল সোমবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানি ১৭.৩৯ মিটার ছিল, যেখানে বিপৎসীমা ১৮.০৫ মিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে পানি ০.১৭ মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড নিরাপত্তার কারণে টি-বাঁধ পরিদর্শন বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং ব্যবসায়ীদেরও সতর্ক করে সরে যেতে বলেছে। পদ্মার পানি বর্তমানে বিপৎসীমার মাত্র ০.৬৬ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার (১০ আগস্ট) সকাল ৬টায় পদ্মার পানি ছিল ১৭.১৩ মিটার, যা সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বৃদ্ধি পেয়ে ১৭.২২ মিটার হয়। গতকাল সোমবার (১১ আগস্ট) সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা বেড়ে ১৭.৩২ মিটার এবং সন্ধ্যা ৬টায় ১৭.৩৯ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে।
গত ২৪ জুলাই থেকে পদ্মার পানি বাড়তে শুরু করে। যদিও কিছু দিন পানি কমে যায়, ৩১ জুলাই থেকে পুনরায় বাড়তি প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। পানি বৃদ্ধি ও প্লাবনের কারণে চরাঞ্চলের মানুষ নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হচ্ছেন।
চর খিদিরপুরের বাসিন্দা মাসুদ বলেন, “পদ্মার পানি বেড়ে চরগুলো ডুবে গেছে, তাই বেশির ভাগ মানুষ এখন লোকালয়ে চলে এসেছে। গবাদি পশুগুলোও নদী থেকে লোকালয়ে আনা হয়েছে, যা গোখাদ্যের সংকট তৈরি করেছে।”
অন্য এক চরবাসী রাকিব বলেন, “পানি প্রতিদিন বাড়ছে, তাই মালামাল নৌকায় করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অনেকেই আত্মীয়ের বাড়িতে থাকছেন, কেউ কেউ ভাড়া বাড়িতে উঠেছেন। তবে গবাদি পশুদের নিয়ে সমস্যা বেশি।”
রাজশাহীর পবা উপজেলার ৮ নম্বর হরিয়ান ইউনিয়নের সদস্য মো. সহিদুল বলেন, “অনেক চর ডুবে গেছে, বাড়ির কাছাকাছি পানি উঠেছে, মানুষ চর ছেড়ে লোকালয়ে চলে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে গবাদি পশুসমূহ।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার এনামুল হক বলেন, “রাজশাহীতে পদ্মার বিপৎসীমা ১৮.০৫ মিটার, সোমবার সন্ধ্যায় পানি ছিল ১৭.৩৯ মিটার।”