
সংগৃহীত ছবি
সকালে খালি পেটে কিশমিশ বা কিশমিশ ভেজানো পানি খাওয়ার উপকারিতা বহু পুরনো স্বাস্থ্যচর্চার অংশ। এতে থাকা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, ফাইবার ও আয়রনের মতো পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতা উন্নত করে। আরব দেশগুলোতে ভোরে ঘুম থেকে উঠে মুখে কিশমিশ রাখার রীতি রয়েছে। অনেকেই আবার রাতভর ভিজিয়ে রাখা কিশমিশের পানি পান করেন। বাদাম, আমন্ড, পেস্তা ও কিশমিশ একসঙ্গে খেলে পুষ্টি ও শক্তি দুটোই মেলে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি পেটে ভিজিয়ে রাখা কিশমিশ খেলে উচ্চ রক্তচাপ থেকে শুরু করে গ্যাস্ট্রিক, কোষ্ঠকাঠিন্য, এমনকি লিভার-কিডনির সমস্যাতেও উপকার পাওয়া যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক এর প্রধান উপকারিতা—
১. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে: কিশমিশের পানি কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য একটি ওষুধ হিসেবে প্রমাণিত। কারণ এতে ফাইবার এবং রেচক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। এই ঘরোয়া প্রতিকারটি দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যেও কার্যকর।
২. গ্যাস্ট্রিকের চিকিৎসা: যারা প্রায়ই গ্যাস্ট্রিক এবং বদহজমের সমস্যায় ভোগেন, তাদের প্রতিদিন খালি পেটে ভেজানো কিশমিশ খাওয়া উচিত। এতে তাৎক্ষণিক সুবিধা পাবেন। কিশমিশের পানিতে শীতল করার গুণ রয়েছে, যা পেটে অ্যাসিড কমিয়ে অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি দেয়। কিশমিশের পানি অন্ত্রের জন্য খুবই উপকারী। এটিতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা অন্ত্রের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ফলে পেটের সমস্যা কমতে শুরু করে। কয়েক দিন খেলেই সুফল পেতে শুরু করবেন।
৩. হার্ট ভালো রাখে: অনেক চিকিৎসক রোগীকে ওষুধের পাশাপাশি কিশমিশ খাওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ কিশমিশ হার্টকে ভালো রাখে। সেইসঙ্গে শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল দূর করে। কিশমিশে রয়েছে নানা ধরনের ভিটামিন ও মিনারেল। কিশমিশ না খেয়ে শুধু কিশমিশের পানি খেলেও সেই ভিটামিন ও মিনারেল শরীরে প্রবেশ করে। পানিতে ভেজানোর আর একটা কারণ শর্করার মাত্রা কমে।
৪. লিভার ও কিডনি ভালো রাখে: রক্ত পরিষ্কার করতে কিডনির পাশাপাশি লিভারকেও ভালোভাবে কাজ করতে হবে। লিভার ও কিডনির সমস্যা হলে ক্ষতিকারক পদার্থ শরীরে জমতে শুরু করে আমাদের অসুস্থ করে তোলে। তাই লিভার ও কিডনিকে সবসময় চাঙ্গা রাখতে হবে। কিশমিশ ভেজানো পানি সেই কাজটাই ভালোভাবে করে।
৫. পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়: বহু মানুষ অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভোগেন। তাদের ওজন প্রয়োজনের তুলনায় কম। সেসব মানুষকে প্রতিদিন কিশমিশ খাওয়াতে পারলে খুবই ভালো। এক সপ্তাহ খেলেই উপকার পাওয়া শুরু করবেন। এর মধ্যে থাকা গ্লুকোজ, ফ্রুকটোজ সুগার লেভেলও রাখে নিয়ন্ত্রণে।
৬. ক্যানসার প্রতিরোধ করে: কিশমিশের মধ্যে থাকে বেশ কিছু ক্যানসাররোধী উপাদান রয়েছে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে থাকে ক্যাটেটিনস ও পলিফেনল, যা ক্যানসার ঠেকাতে সাহায্য করে।
৭. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে: কিশমিশের মধ্যে রয়েছে পটাশিয়াম। ফলে তা আমাদের রক্তচাপ রাখে নিয়ন্ত্রণে। এ ছাড়া কিশমিশে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকায় হিমোগ্লোবিন বাড়ে। সেই সঙ্গে রক্তের ঘাটতিও পূরণ হয়। প্রতিদিন খালি পেটে কিশমিশ খেলে রক্তাল্পতা থেকেও রক্ষা পাবেন।