
আখের গুড় বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ও প্রিয় খাদ্যদ্রব্য। বিশেষ করে শীতকালে পিঠা-পুলিতে এর ব্যবহার লক্ষ করা যায় সবচেয়ে বেশি। তবে এই পুষ্টিকর ও ঐতিহ্যবাহী খাবার এখন এক শ্রেণির মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ীর লোভের ফাঁদে পড়েছে। আখের পরিবর্তে চিনি, চুন, ফিটকিরি ও হাইড্রোজ মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ভেজাল গুড়।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ভৈরব বাজারের কিছু কারখানায় যেখানে থাকার কথা ছিল সারি সারি আখ, সেখানে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে চিনির বস্তা। আগুনে পাত্র গরম করে তাতে ঢালা হচ্ছে চিনি, সঙ্গে মেশানো হচ্ছে চুনের পানি, হাইড্রোজ ও ফিটকিরি। অল্প সময়েই তৈরি হচ্ছে দেখতে হুবহু আখের গুড়ের মতো এক ধরনের আঠালো মিশ্রণ- যা পরে বিভিন্ন সাইজের পাত্রে ঢেলে বাজারজাত করা হচ্ছে।
স্থানীয় একটি কারখানার মালিক শিমুল পোদ্দার সাংবাদিকদের বলেন, ‘গুড় তৈরিতে বিএসটিআই বা পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র লাগে না।’
তবে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. কিশোর কুমার ধর বলেন, ‘চিনি, ফিটকিরি, চুন ও হাইড্রোজ দিয়ে তৈরি গুড় অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি শিশুদের স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে, বয়স্কদের লিভার ও কিডনিতেও সমস্যা সৃষ্টি করে। এই ভেজাল গুড় খেলে পেটের সমস্যা, হজমের সমস্যা এমনকি দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে।’
জানা গেছে, মিশুক ট্রেডার্স নামের একটি কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে এই ভেজাল গুড় তৈরি করছেন শিমুল পোদ্দার নামের এক ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে একাধিকবার মোবাইল কোর্টের অভিযান চালানো হলেও কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারো নতুন করে শুরু করেছেন তিনি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘একসময় তিনি আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের নাম ব্যবহার করতেন। এখন বিএনপির ছায়ায় ব্যবসা চালাচ্ছেন।’
খুচরা বিক্রেতা আলমগীর মিয়া জানান, প্রতিদিন অন্তত ১৫০ থেকে ২০০ প্যাকেট ভেজাল গুড় ভৈরবসহ আশপাশের জেলা ও উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি- চাপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী থেকে আনা ভেজাল গুড় ভৈরবের প্রতিটি আড়তে অবাধে বিক্রি হচ্ছে। প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় দিন দিন এই ভেজাল ব্যবসার বিস্তৃতি বেড়েই চলছে।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শবনম শারমিন বলেন, ‘কিছু কারখানার বিরুদ্ধে এর আগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যদি আবার কেউ এই ভেজাল ব্যবসায় জড়ায়, তাহলে আইন অনুযায়ী আবারো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম