প্রকাশ: রবিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৫, ৭:২০ পিএম

সংগৃহীত ছবি
এএফসি অ-২০ নারী টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬-১ গোলে বড় পরাজয় হয়। যদিও দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকা স্বাভাবিক হলেও, লাওসের মতো দলকে ১-৩ গোলে হারিয়ে ও লাওসের ম্যাচে চীনের বিরুদ্ধে গোলশূন্য রক্ষা করে বাংলাদেশ ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ড্র বা ভালো পারফরম্যান্সের আশার সঞ্চার হয়েছিল।
সাধারণত, ম্যাচ শেষের আধ ঘণ্টার মধ্যে বাফুফের মিডিয়া বিভাগ কোচের প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করে। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের দুই ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও হেড কোচ পিটার বাটলার থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কোচ বাটলার এই ম্যাচটি বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য শিক্ষণীয় বলে উল্লেখ করলেও তার উপলব্ধি ও দলের শিক্ষা কী হয়েছে, তা জানা যায়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে বাটলার ‘হাই লাইন’ ডিফেন্স প্রয়োগ করেছিলেন, যা লাওসের বিরুদ্ধে এক গোল হজমের পরও তিনি বদলানোর কথা বলেননি। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে হাই লাইন রক্ষণ কার্যকর হয়নি, যা ম্যাচের শুরু থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের গোলরক্ষক স্বর্ণা বেশ সময় বক্সের বাইরে এসে বল ক্লিয়ার করেছেন, আর ডিফেন্ডাররা কোরিয়ার দ্রুত ও দক্ষ ফুটবলারদের সামলাতে পারেনি। এর ফলে বড় ব্যবধানে গোল হজম হয়। এছাড়াও বাটলারের কিছু কৌশল ও পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ম্যাচ শেষে সাধারণত কোচরা মিডিয়ার সামনে আসেন, তবে এ টুর্নামেন্টের বাইলজে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন বাধ্যতামূলক নয়। তাছাড়া লাওসে বাংলাদেশের কোনো সাংবাদিকও উপস্থিত ছিলেন না, তাই বাফুফের মিডিয়া বিভাগের দেওয়া তথ্য ছাড়া এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি। কোচ বাটলার বা মিডিয়া বিভাগের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, মিডিয়া ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমীর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে, কিন্তু সাড়া পাওয়া যায়নি।
আরো একটি বিষয় হলো, পিটার বাটলার প্রায়ই বাংলাদেশের ফুটবলের পেশাদারিত্ব ও আধুনিকতার বিষয়ে কথা বলেন, কিন্তু নিজেই সেই চর্চায় অনীহা প্রকাশ করেন। ঢাকা থেকে লাওস যাওয়ার সময় দলের সবাই ট্রাভেল কিট পরলেও তিনি সাধারণ পোশাকে ছিলেন, যার ফলে কোনো গ্রুপ ছবিতেও দেখা যায়নি। বড় হারের পর কোচের বক্তব্য না পাওয়া ফুটবলাঙ্গনে নন-স্পোর্টিং ও অপেশাদার আচরণ হিসেবে আলোচনা হচ্ছে।
গতকাল কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে গণমাধ্যমের প্রত্যাশা ছিল কোচ বা খেলোয়াড়দের বক্তব্য, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাফুফের মিডিয়া বিভাগ সহকারী কোচ মাহমুদা আক্তার অনন্যার বক্তব্যই সরবারহ করেছে। তিমুরলেস্তের ম্যাচের আগে দল থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, এমনকি হোটেলের জিম বা সুইমিংয়ের কোনো ছবি বা ফুটেজও বাফুফে দেয়নি। বাংলাদেশ নারী ও পুরুষ উভয় দলের হেড কোচের পাশাপাশি মিডিয়া নিয়েও অতিরিক্ত তদারকি চলছে।