
‘আদিবাসী ইস্যু কেবল পার্বত্য চট্টগ্রাম বা বাংলাদেশের নয়, এটি আন্তর্জাতিক ইস্যু।’ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে এ কথা বলেন আদিবাসী নেতা সুধাকর ত্রিপুরা।
শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে খাগড়াছড়ি সদরের খাগড়াপুরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।কর্মসূচিটির আয়োজন করে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটি।
সুধাকর ত্রিপুরা বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পর থেকে আমরা ধারাবাহিকভাবে আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দাবি করে আসছি। যদি তা না দেওয়া হয়, তাহলে সামনে কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
সুধাকর ত্রিপুরা আরো বলেন, স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। বর্তমানে অন্তর্বতীকালীন সরকারের নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। অতি শ্রীঘ্রই নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার আসবে। আমাদের আশা প্রত্যাশা এবং আমাদের জোর দাবি থাকবে আমরা যাতে সাংবিধানিক ভাবে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি পাই এবং এটার যদি কোন ব্যর্থ হয়, আমাদের যদি আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া না হয়, আগামীতে আমরা কঠোর এবং লাগাতার কর্মসূচির হুশিয়ারী দেন তিনি।’ এ জন্য জনগণকে সংগঠিত করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক চাথোয়াই মং মারমা, এবং সঞ্চালনায় ছিলেন মনোতোষ ত্রিপুরা।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- পার্বত্য চট্টগ্রাম জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) সভাপতি সুজন জাকমা (ঝিমিট), পানছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রত্না তঞ্চঙ্গ্যা, উদযাপন কমিটির সদস্য জ্ঞান প্রিয় চাকমা, সাংস্কৃতিক কর্মী কৃপায়ন ত্রিপুরা, ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরারে সভাপতি আকাশ ত্রিপুরা, লেখক ও নাট্যকার আনন্দন মোহন চাকমা।
বক্তারা বলেন, ‘আদিবাসীরা আজও বৈষম্য ও বঞ্চনার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী-শিশুর নিরাপত্তা নেই, ভূমি দখল, নিপীড়ন ও নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে। সামগ্রীকভাবে আমাদের জীবনযাত্রায় পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীরা ভালো নেই এবং দেশে আমরা বৈষম্য শিকার হচ্ছি।’ এ সময় বক্তারা সরকারের কাছে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানায়।
তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, অবিলম্বে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান এবং পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় মহাজনপাড়া সূর্যশিখা ক্লাব থেকে একটি র্যালি শুরু হয়ে শহরের শাপলা চত্বর হয়ে সমাবেশস্থলে গিয়ে শেষ হয়। র্যালিতে গারো, চাকমা, ত্রিপুরা, মারমাসহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ নিজ ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও গয়নায় সজ্জিত হয়ে অংশ নেন।
৯ আগস্ট বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়। এই দিনে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, ভূমি, ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয় রক্ষার দাবি উঠে আসে বিশ্বজুড়ে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম