
পটুয়াখালীর বাউফল-পটুয়ালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল দশার কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ভাঙ্গা ব্রিজ থেকে লোহালিয়া ব্রিজ এবং নওমালা থেকে আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের মিলঘর পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কে শতাধিক গর্ত সৃষ্টি হয়ে রাস্তাটি কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বর্ষায় প্রতিটি গর্তে জমে থাকা পানি দেখে মনে হয়, রাস্তা নয়- বিশাল বিশাল পুকুর!
এই মহাসড়কটি বাউফল, দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার প্রায় ১৫ লাখ মানুষের জেলা শহর পটুয়াখালী এবং রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র পথ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বাস, ট্রাক, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িতে যাতায়াত করেন এই সড়কে। অথচ যানবাহনের জন্য নির্মিত এই মহাসড়কে এখন যেন নৌকা চালিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে!
চরম দুর্ভোগের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে বাউফলের আসুরিহাট বাজার এলাকায় পানিতে ডুবে যাওয়া সড়কে নৌকা চালিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় যুবক রুমেন সিকদার। তিনি একটি নৌকা নিয়ে গর্তে নামেন এবং পথচারীদের পারাপারে সহায়তা করেন। ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাজুড়ে আলোড়ন তোলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে।
প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো যাত্রীবাহী বাস কিংবা মালবাহী ট্রাক গর্তে আটকে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি করছে। সোলাবুনিয়া বাজারে ‘চেয়ারম্যান পরিবহনের’ একটি বাসের সামনের চাকা গর্তে আটকে গেলে বাসের সামনের অংশ ভেঙে যায়। পরে যাত্রী নামিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় বাসটি সরানো হয়। একই বাস আবার ছিদ্দিকের বাজারে গর্তে আটকে যায়।
নাসরিন জাহান, এক যাত্রী, যিনি অসুস্থ মাকে নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিলেন, বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তিনবার বাস থেকে নামতে হয়েছে। গর্তের ভয়ে কবে পৌঁছাবো, সেটাই বুঝতে পারছি না।’
অটোরিকশা চালক মমিন হাওলাদার বলেন, ‘আমরা নিজেরাই অন্তত ১০টি গর্তে ইট ফেলে ভরাট করেছি। প্রতিদিন নতুন গর্ত হচ্ছে, পুরনোগুলোর ইটও উঠে যাচ্ছে। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে যায়, তখন বোঝাই যায় না কোথায় কত গভীর গর্ত আছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।’
এই মহাসড়কের দুই পাশের দোকানদাররাও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, ভারি কোনো যানবাহন গর্তে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারালে তা দোকানে ঢুকে যেতে পারে এবং প্রাণহানি ঘটতে পারে।
এক দোকানদার বলেন, ‘রাস্তার পাশেই আমার দোকান। গাড়ি গর্তে পড়ে হেলে পড়ে। কখন যে ছুটে এসে দোকানে ঢুকে পড়ে, তা আল্লাহই জানেন।’
জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অধীনে নির্মিত এই সড়কটির এমন করুণ অবস্থার জন্য স্থানীয়রা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী এবং তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন।
জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী মীর বলেন, ‘ওই সড়কের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, আগামী সপ্তাহে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।’
স্থানীয়রা জানান, সড়কটির অবস্থা আর সহ্যসীমার মধ্যে নেই। কেউ যদি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ না নেন, তাহলে জনরোষ তৈরি হবে এবং তা বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নিতে পারে। জীবনের চেয়ে কি রাস্তা বড়?
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম