
সংগৃহীত ছবি
নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মাস্তান বলে ‘কটাক্ষ’ করেছেন। ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) নয়াদিল্লির ওপর ট্রাম্পের এই শুল্কারোপের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। এছাড়াও দিল্লিতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জু ফেইহং এ এক্স পোস্টে বলেন, ‘‘মাস্তানকে এক ইঞ্চি জায়গা দিলে মাইলকে মাইল দখল করে নেবে।’’
পোস্টে
তিনি আরো লেখেন, ‘‘শুল্ককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে অন্য দেশগুলোকে
অবদমন করতে চাইলে তা জাতিসংঘের বাণিজ্য নীতির পরিপন্থি হবে। এটা
দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।’’
রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখায় ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর বুধবার অতিরিক্ত আরো ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে দেশটির ওপর মোট শুল্কের পরিমাণ দাঁড়ালো ৫০ শতাংশ।
ট্রাম্প নতুন করে ঘোষিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কারোপের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। এই শুল্ককে ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছে দেশটি। সেই সঙ্গে ‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার কথাও জানিয়েছে।
এছাড়ও, ভারতের ওপর শুল্কহার বাড়ানোর কথা আগেই জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্কহার ‘উল্লেখযোগ্য পরিমাণ’ বাড়াতে পারেন তিনি।”
ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প। বুধবার এক ঘোষণায় তিনি জানান, রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ‘শাস্তি’ হিসেবে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় সন্ধ্যায় বিবৃতি দেয় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, “সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।”
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো বলেন, “আমরা এরই মধ্যে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছি। আমাদের তেল আমদানি বাজারভিত্তিক এবং ভারতের ১৪০ কোটির বেশি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সার্বিক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই করা হয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করাকে আমরা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মনে করি। বিশেষত যখন অন্যান্য অনেক দেশও তাদের জাতীয় স্বার্থে একই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।”
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, “আমরা আবারও জোর দিয়ে বলছি, এসব পদক্ষেপ অবিচারপূর্ণ, অযৌক্তিক এবং অযথা।” ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করব।”
এদিকে টাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারত নতুন কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তাই এখন দেখার বিষয়। তবে কি ভারত রাশিয়ার প্রতি আরো ঝুঁকবে? নাকি ট্রাম্প এই শুল্ক খেলায় সিদ্ধান্ত বদলাবে?