
সংগৃহীত ছবি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই বিপ্লবের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগে যেসব শিক্ষকের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তাঁদের এখনও দায়িত্বে বহাল রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি, আন্দোলন চলাকালে কিছু শিক্ষক প্রকাশ্যে অথবা পরোক্ষভাবে প্রশাসনের পক্ষ নিয়ে শিক্ষার্থীদের তথ্য সরবরাহ ও আন্দোলন দমনে ভূমিকা রাখেন। জুলাই বিপ্লব’কে গণতান্ত্রিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখলেও কিছু শিক্ষক তা নিয়ে প্রকাশ্যে বিরূপ মন্তব্য করেছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এসব শিক্ষকরা বরাবরই অগ্রগতিমুখী আন্দোলনের বিরোধিতা করে আসছেন এবং তাদের অবস্থানে প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট নিরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে অন্যতম আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীলদের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মো নূরে আলম আব্দুল্লাহ ও সহযোগী অধ্যাপক ড. নিপা দেবনাথ, দুজনেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। জুলাইয়ে তাদের ভূমিকা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন অঙ্গনে। জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনকে তারা ছাত্রদের বাড়ি মনে করতেন এবং সেই সাথে কার্যক্রম চালিয়েছিলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলে অভিযোগ আছে। গণহত্যার পক্ষে সাফাই করে মানববন্ধনও করেছিলেন ৪ষ্ঠা আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে।
বিপ্লব পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিস্টের দোসর এই শিক্ষকরা জুলাই যোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সমালোচনার মুখোমুখি করে দাবি করেন তারা সন্ত্রাসী। তবুও টনক নড়েনি প্রশাসনের, বহাল তবিয়তে স্বপদে বহাল আছে জুলাই বিপ্লবের বিরোধিতাকারী শিক্ষকগণ। প্রশাসন বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিলেও কার্যক্রমে অনীহা বলে মন্তব্য করেন শিক্ষার্থীরা। যেসব শিক্ষক আন্দোলন দমন, ভিডিও রেকর্ড ও তথ্য সংগ্রহ করে প্রশাসন ও বাহিনীর কাছে পাঠিয়েছেন, তারা এখনও স্বপদে বহাল। এতে ন্যায়বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এক শিক্ষার্থী।
প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে মন্তব্য করে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও এখনো কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন বলেন, আমরা নিপা দেবনাথকে জিজ্ঞাসা করার পর তিনি আমাদের বলেন, ২৪-এর ৪ আগস্টে নিপা দেবনাথ নীলদলের ব্যানারে দাড়াননি এবং অস্বীকার করেন। পরে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে আমরা অবগত হই যে নিপা দেবনাথ গত ৪ আগস্টের নীল দলের প্রোগ্রামে উপস্থিত ছিলেন এবং সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন, যেটা আসলেই দুঃখজনক। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সাম্রাজ্যের অবসান হলেও এইরকম ফ্যাসিবাদী শিক্ষকদের কারণে ২৪-এর গনঅভ্যুত্থান প্রতিনিয়ত প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। আমরা এই ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানাচ্ছি।
আওয়ামী শাসনে নিয়োগপ্রাপ্ত এইসব শিক্ষকেরা যোগ্য শিক্ষক না হওয়া সত্ত্বেও ডিপার্টমেন্ট দাপিয়ে বেড়ান, পরীক্ষার হল ডিউটি এবং বিভিন্ন কমিটির সদস্য হয়ে টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ আছে।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো নূরে আলম আব্দুল্লাহ বলেন, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন, আমি ছাত্রদের পক্ষে ৪-৫টা পোস্ট করেছি।
সহযোগী অধ্যাপক নিপা দেবনাথ সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, আমাদের কাছে এবিষয়ে কোনো অভিযোগ এখনো আসেনি, অভিযোগ আসলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর