প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫, ৬:৫১ পিএম আপডেট: ০৫.০৮.২০২৫ ৬:৫৬ PM

বরগুনার তালতলী উপজেলায় দুই বছর আগে বিএনপির কর্মসূচি চলাকালে দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রাখাইন সম্প্রদায়ের সদস্য, ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিদের আসামি করায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা সদরের সদর রোডে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
৩০ জুলাই আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. ছগির হাওলাদার। মামলায় আওয়ামী লীগের উপজেলা সভাপতি রেজবি-উল কবির জোমাদ্দার ও সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুজ্জামান তনুসহ ১০১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৭০-৮০ জনকে আসামি করা হয়।
তবে মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের নাম থাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা দাবি জানান, বাদী ছগির হাওলাদারকে দল থেকে বহিষ্কার এবং মিথ্যা মামলায় আসামি করা নেতাকর্মীদের নাম প্রত্যাহারের।
আসামিদের তালিকায় রয়েছেন শারিকখালী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য মো. নিজাম আকন (৪৪ নম্বর), যুবদল নেতা বেল্লাল আকন (৩৬ নম্বর), বড়বগী ইউনিয়নের যুবদল নেতা হাবিব (৭২ নম্বর), শ্রমিক দলের হারুন চৌকিদার এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের মংনানসে মংনান্ট ও থুইমং সুঁই তালুকদারসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে বলেন, বাদী কারও সঙ্গে পরামর্শ না করে একতরফাভাবে মামলা করেছেন এবং ব্যক্তিগত জমি বিরোধের জেরে নিরীহ লোকজনকে ফাঁসানো হয়েছে। রাখাইন নেতা মংনানসে মংনান্ট জানান, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন, বাদী জমি দখলের উদ্দেশ্যে তাঁদের আসামি করেছেন। অন্যদিকে নিজাম আকনের দাবি, চাঁদা না দেওয়ায় তাঁকে এবং তাঁর ভাইকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. ইকরাম হোসেন বলেন, “আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত করে যাঁদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হবে। প্রমাণ না থাকলে অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ