প্রকাশ: সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫, ৩:১৭ পিএম আপডেট: ০৪.০৮.২০২৫ ৩:৩৫ PM

হেলিকপ্টার থেকে বিমান এমন নাটকীয় পালাবদলের ছবি কি কেবল কাকতালীয়? না কি এর পেছনে ছিল সুপরিকল্পিত ছায়া অপারেশন?
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ছবিকে ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা।
এই ছবিটা কে তুলছিলো জানেন কি? হেলিকপ্টার থেকে কিভাবে বিমান আসলো? কে বা কারা এই ছবি কেন পোস্ট করছিলো? এসব প্রশ্নের উত্তর জানেন কি?
এই একটা ছবি অনেকের জীবন উলোটপালোট করে দিয়েছে। এটি ছিল শেখ হাসিনার দেশত্যাগের মুহূর্তের দৃশ্য- যেখানে তাকে হেলিকপ্টারে দেখা গেলেও, বাস্তবে তিনি বিমান বাহিনীর সি-১৩০-জে বিমানে সাতক্ষীরা সীমান্ত হয়ে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
ভিডিও করার অ্যাঙ্গেল, অবস্থান ও ক্যামেরা প্যান করার পর্যবেক্ষণ করে এয়ার ইন্টেলিজেন্স কোন কক্ষ থেকে এবং কে এই ভিডিও দৃশ্য ধারণ করেন তা আইডেন্টিফাই করতে সক্ষম হয়। এরকমই দাবি করছে বিমান বাহিনীর এয়ার ইন্টেলিজেন্স।
এ ঘটনায় ফ্লাইট লে. রিফাত আশরাফীকে ধরা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তার অফিসের রুমের জানালা থেকে তিনি ছবিটি তুলেছেন। শেখ হাসিনা বিমান বাহিনীর সি-১৩০-জে বিমানে করে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে কলকাতা হয়ে দিল্লি যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তার চলে যাওয়ার এই রুট এবং বিমানে করে যাচ্ছেন সে কথা যাতে জানাজানি না হয়ে যায় সেজন্য ছবিটি তোলা ও ভাইরাল করা হয়।
এর উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে করে ত্রিপুরা যাচ্ছেন- আগেই এই ন্যারেটিভকে এস্টাবলিশড করা। (বিমান বাহিনীর তথ্য) ছবি ধারণকারী রিফাতের মোবাইল ফরেনসিক করার সময় তদন্তকারী এয়ার ইন্টেলিজেন্স আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফের যোগসূত্রতা আবিষ্কার করা হয়। জানা যায়, তিনি একটা বিদেশী সংস্থার সক্রিয় এজেন্ট।
এয়ার ইন্টেলিজেন্স প্রথমে আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের তদন্তে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে পড়ে। বড় ঘটনা বুঝতে পেরে এয়ার ইন্টেলিজেন্স বিষয়টি ডিজিএফআইর নজরে আনে।
ডিজিএফআই ১৪ আগস্ট ২০২৪ তাকে আটক করে বিষয়টি সম্পর্কে অধিকতর তদন্ত শুরু করে। তদন্তে উঠে আসে গুরুত্বপূর্ণ নাম- আব্দুল্লাহ ইবনে আলতাফ। বিদেশী সংস্থার সঙ্গে তার জড়িত থাকা প্রমাণিত হয়। বর্তমানে তিনি কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন।
এ ব্যাপারে ওই কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আবদুল্লাহ আল-মামুন জানান, স্কোয়াড্রন লিডার আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফ কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি সেলে আছেন। বিমান বাহিনী অ্যাক্টের অধীনে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কোর্ট মার্শালে তার ১০ বছরের সাজা হয়।
লেখক: কলামিস্ট
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম