প্রকাশ: শনিবার, ২ আগস্ট, ২০২৫, ৬:১৮ পিএম

মেঘনা উপজেলাকে দাউদকান্দির সঙ্গে সংযুক্ত করে কুমিল্লা-১ আসনে যুক্ত করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেতারা।
কুমিল্লা-২ (হোমনা-মেঘনা) সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বহালের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে মেঘনা উপজেলা বিএনপি। প্রস্তাবিত খসড়া সীমানা অনুযায়ী মেঘনা উপজেলাকে দাউদকান্দির সঙ্গে সংযুক্ত করে কুমিল্লা-১ আসনে যুক্ত করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেতারা।
আজ শনিবার (২ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মানিকারচর বাজারে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেঘনা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. আজহারুল হক শাহীন। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া।
অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, “নির্বাচন কমিশন যাচাই-বাছাই ছাড়াই শুধু ভোটার তালিকার সংখ্যার ভিত্তিতে মেঘনাকে দাউদকান্দির সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এটি অযৌক্তিক, বাস্তবতাবিবর্জিত ও গণবিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত। কমিশন যদি এই খসড়া গেজেট বাতিল না করে পূর্বের মতো হোমনা-মেঘনা নিয়ে কুমিল্লা-২ আসন বহাল না রাখে, তবে আগামী ৭ জুলাই নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে দুই উপজেলার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মানববন্ধন ও ১০ আগস্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৯৫৪ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মেঘনা উপজেলা হোমনা উপজেলার অংশ হিসেবে কুমিল্লা-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৯৮ সালে মেঘনা আলাদা উপজেলা হিসেবে গঠিত হলেও প্রশাসনিক সুবিধা, ভৌগোলিক সংযোগ ও জনমানসের ধারাবাহিকতায় হোমনা-মেঘনা একসঙ্গে সংসদীয় আসন হিসেবে টিকে ছিল। কিন্তু ২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণে মেঘনাকে কৃত্রিমভাবে দাউদকান্দির সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়, যেখানে সরাসরি কোনো সড়ক যোগাযোগই নেই। এর ফলে মেঘনার মানুষ দীর্ঘদিন রাজনৈতিকভাবে অবহেলিত থেকেছে।
সম্মেলনে আরো বলা হয়, দাউদকান্দির তুলনায় মেঘনা ছোট উপজেলা হওয়ায় একীভূত হলে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় মেঘনা উপেক্ষিত থাকবে। এতে নেতৃত্ব বিকাশ, উন্নয়ন বরাদ্দ ও প্রশাসনিক সেবা বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া ২০২৩ সালে প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী হোমনা-মেঘনা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-২ আসনই ছিল সময়োপযোগী ও জনমুখী। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনও এই সীমানা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই হঠাৎ করে এই পরিবর্তন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও বক্তব্য দেন। তারা বলেন, হোমনা-মেঘনা আসন কেবল একটি রাজনৈতিক মানচিত্র নয়, এটি একটি জনপদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক। নির্বাচন কমিশনের উচিত হবে জনগণের মতামত, ইতিহাস ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে খসড়া বাতিল করে পুনরায় হোমনা-মেঘনা নিয়ে কুমিল্লা-২ আসন বহাল রাখা।