
গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের (বাগছাস) ৩ জন নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে, এক জন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ও বাকী দুজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সদস্য ছিলেন।
শনিবার (২ আগস্ট) সর্বশেষ পদত্যাগের ঘোষণা দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক ম. নুর নবী ।
তিনি পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে বলেন, সংগঠনের নেতৃত্ব মন্ত্রিপাড়াকে সংগঠনের মূল অফিস বানিয়ে রেখেছে। তারা জাতীয় স্বার্থবিরোধী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে জুলাই চেতনাকে বিক্রি করে দিয়েছে। বসুন্ধরা গ্রুপের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় অনুষ্ঠান আয়োজিত হওয়া এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নেওয়ার মাধ্যমে সংগঠনের বিশ্বাসযোগ্যতা হুমকির মুখে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ-এর নাম করে তাদের পূর্বের সংগঠন ছাত্রশক্তি "কোরাম" তৈরি করে সকল মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও প্রতিনিধিত্বের ভার নিজেদের কাছে কুক্ষিগত করে রেখেছে। এতে সাধারণ সদস্য ও কর্মীদের মতামত বা অংশগ্রহণ উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। এই কোরামভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি প্রকৃতপক্ষে স্বৈরাচারী প্রবণতার পরিচায়ক এবং গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থি।
তিনি বলেন, জুলাইকে রীতিমতো তাদের ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত করেছে। তাদের জন্যই ছাত্র সংগঠনগুলো নিজেদের মধ্যে ক্রেডিট খেলার অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। এই অভ্যুথানকে শুধু দলেরই নয় বরং কিছু নির্দিষ্ট নেতারাও তাদের ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত করেছে। আমি মনে করি তাদের মাধ্যমেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসের চরম বিকৃতি ঘটছে।
এর আগে, শুক্রবার (১ আগস্ট) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে বাগছাসে কোরামের কথা উল্লেখ করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন সংগঠনটির ঢাবি শাখার সদস্য সানি সরকার।
তিনি বলেন, মাত্র কয়েকমাস হওয়া একটা ছোট ছাত্রসংগঠন যেখানে কর্মীর থেকে কোরামই বেশী। যে জুলাইকে কেন্দ্র করে নতুন এক বন্দোবস্তের চিন্তায় এক নতুন ছাত্রসংগঠনে এসেছিলাম আল্টিমেটলি তার কিছুই তেমন নেই। বরঞ্চ, এই সংগঠন যতটা না রাজনৈতিক তার থেকেও বেশী ভাই-ব্রাদার কেন্দ্রিক। জুলাইয়ের অন্যতম বড় স্টেক রাখা এই সংগঠন থেকে এমন আনসফট পরিবেশ পাওয়া সত্যিই হতাশাজনক তাই নিজেকে আর এমন পরিস্থিতিতে রাখতে চাইনা।
এরও আগে, গত ২৬ জুলাই ফেসবুকে “বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদে (বাগছাস) জেন্টেলম্যান পলিটিক্স নাই” পোস্ট করে পদত্যাগ করেছিলেন সংগঠনটির ঢাবি শাখার সদস্য জাসিম জিহান।
গত এক সপ্তাহের মধ্যে তিনজন নেতাকর্মীর পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় দলটির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরীর কাছে।
তিনি নুর নবীর পদত্যাগ সম্পর্কে বলেন, আমাদের আজ পর্যন্ত যত সাধারণ সভা হয়েছে তন্মধ্যে তিনি কেবল একটায় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক কার্যক্রমেও কোন ভূমিকা রাখতেন না। এজন্য আমরা তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলাম কিন্তু তিনি সেটার জবাব দেননি। এ কারণে আমরা তাকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।
তিনি তার কার্যক্রমকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সাজানো নাটক আখ্যায়িত করে বলেন, তিনি সংবাদ সম্মেলনে যে-সব প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন সেগুলো দলের সাধারণ সভায় করতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেটা না করে সংগঠনকে ছোট করার জন্য এ কাজ করেছেন।
এই নেতা বলেন, তিনি যে অভিযোগ করেছেন তার কোন সত্যতা নেই। তিনি এর সপক্ষে কোন প্রমাণ দেখাতে পারেননি। এছাড়াও, জাসিম জিহানের পদত্যাগকে একই ধরনের ঘটনা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সানি সরকারের পদত্যাগ প্রসঙ্গে বলেন, এটাকে আমরা পদত্যাগ মনে করিনা। এটা অনেকটা ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে। আমাদের পদত্যাগের ফর্মাল প্রসিডিওর আছে। স্যোশাল মিডিয়া পদত্যাগের কোন ওয়ে হতে পারে না।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে