
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে রোগীর কাছ থেকে চিকিৎসার জন্য টাকা, স্বর্ণালংঙ্কার ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আজ শনিবার (২ আগস্ট) ভোরে শহরের পলাশের মোড় নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ভুক্তভোগীরা হলো ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়ার আমির খান, নাদিরা খান ও তাদের ছেলে ফারদিন খান।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে জানান, ঘটনায় বিষয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে এস আই ফরিদুজ্জামান তাদের সাথে কটাক্ষমূলক আচরণ করেন।
ভুক্তভোগী ফারদিন খান বলেন, ‘আমি আমার অসুস্থ বাবা ও মাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ঢাকার উদ্দেশ্য রিকশা যোগে রেল স্টেশনে যাচ্ছিলাম। এ সময় পৌর কবরস্থানের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন ছিনতাইকারী ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাদেরকে মারধর করতে শুরু করে। এতে সাথে থাকা সবাই রক্তাক্ত ও জখম হই। প্রাণ বাঁচাতে আমারা বাধ্য হয়ে আমাদের সাথে থাকা সব কিছুই ছিনতাইকারীদের হাতে তুলে দেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর পরই থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলে পুলিশের পক্ষ থেকে আমাকে কোন সহযোগিতা না করে উলটো পুলিশ আমাদের বলে- ‘ছিনতাইকারীদেরকে কেন আটক করেননি।’ এর পর ভোড় ছয়টার সময় ঘটনা ঘটলেও পুলিশ দুপুর একটার সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘এ ঘটনায় ভৈরব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে।’ পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকরা ছিনতাইয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোনো কথা না বলেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
আরেক ভুক্তভোগী আমির খান বলেন, ‘কবরস্থানের মোড়ে যাওয়া মাত্রই ৫ থেকে ৬ জনের একটি ছিনতাইকারী চক্র আমাদের রিকশা আটক করে আমাদের ওপরে হামলা চালায়। এসময় আমি তাদের ছুরিকাঘাতে মারাত্মকভাবে জখম হই।’
তিনি আর বলেন, ‘ আমাদের জখম করে সাথে থাকা চিকিৎসার জন্য নগদ টাকা, স্বর্ণালংঙ্কার ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। আমরা থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ আমাদের আবারও দশটা থেকে এগারটার মধ্যে আবারো থানায় আসতে বলেন।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘থানার কর্মকর্তারা আমাদের সাথে কোনো রকম সৌহার্দ্য পূর্ণ আচরণ করেননি।’ তিনি দুঃখ্য প্রকাশ করে বলেন, ‘ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে বাবা- মাকে আরও চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হলো না।’
ছিনতাইকরীদের শিকার আরেক ভুক্তভোগী নাদিরা খান বলেন, ‘পুলিশ ফরিদ আমাদের সাথে অনেক খারাপ আচরণ করেছে। আমাদের অভিযোগ তারা গ্রহণ করেনি।’
তিনি আরও বলেন,‘ছিনতাইকারীরা আমাদেরকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। তাদের হাতে রাম দা, বড় বড় ধারালো ছুরি আর লাঠিসোটা ছিল। আমাদের কাছে থাকা ১ লক্ষ ১১ হাজার টাকা আমার কানের স্বর্ণালংকারও ছিনিয়ে নিয়ে গেছে ছিনতাইকারীরা।’
এ ব্যাপারে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার ফোয়াদ রুহাণি ঘটনাস্থলে দুপুর একটার সময় পরিদর্শনে আসেন। সাংবাদিকরা ঐ সময় তার সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা না বলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম