
আপনার সন্তান পড়াশোনায় মনোযোগী নয় কিংবা অনেক দুষ্টুমি করে, তাই বলে কি সারাক্ষণ বকাঝকা করে চলবেন? “ওটা করো না”, “এদিকে যেও না”—এমন নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ অনেক সময়ই সন্তানকে আপনার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
বহু অভিভাবক মনে করেন, ভালো মানুষ করতে হলে ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে কঠোরভাবে শাসন করতে হবে। কিন্তু আধুনিক মনোবিদরা বলছেন, এই ধারণা পুরনো এবং অকার্যকর।
আধুনিক প্যারেন্টিং বলছে—প্রথমে সন্তানের বন্ধু হন। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলে শিশুর মানসিক বিকাশ যেমন হয়, তেমনি সে শিখে কিভাবে ভালো মানুষ হতে হয়। এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস দেওয়া হলো, যা অভিভাবক ও সন্তানের মধ্যে বন্ধনের শক্ত ভিত গড়ে তুলতে সাহায্য করবে—
১. সন্তানের কথা মন দিয়ে শুনুন
সন্তান যদি কিছু বলতে চায়, তাহলে তাকে গুরুত্ব দিন। সবকিছুতে নিজের মত চাপিয়ে না দিয়ে ধৈর্য ধরে বোঝানোর চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, আপনি যেমন আচরণ করবেন, সন্তান তেমনই শিখবে। আজ আপনি যদি তার মতামতকে উপেক্ষা করেন, কাল সে আপনাকেও নিজের মতো করে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে।
২. আবেগের মুহূর্তে পাশে থাকুন
শিশুরা সহজে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তাই তারা রাগ, কান্না বা আনন্দ খুব তাড়াতাড়ি প্রকাশ করে ফেলে। এই সময় আপনি নিজে মেজাজ হারিয়ে ফেললে সমস্যা আরও বাড়বে। বরং তাকে জড়িয়ে ধরুন, সান্ত্বনা দিন। তাতে শিশুর মনে হবে, আপনি সবসময় তার পাশে আছেন।
৩. শাসনের পরিবর্তে বোঝান
প্রত্যেক ভুলের জন্য বকাঝকা না করে বোঝানোর কৌশল নিন। আজ হয়তো সে বুঝবে না, কিন্তু ধৈর্য ধরে বোঝালে কয়েকদিন পর নিজেই নিজের আচরণ সংশোধন করে নেবে।
৪. কিশোর সন্তানের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা দুটোই গুরুত্ব দিন
তাদের গতিবিধির প্রতি নজর রাখুন, তবে ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপ নয়। তাকে বোঝান, এমন কিছু যেন না করে যাতে নিজের ক্ষতি বা পারিবারিক অপমান হয়। এতে সে আপনার সঙ্গে খোলামেলা সম্পর্ক বজায় রাখতে পারবে।
৫. তুলনা নয়, সন্তানের বিশেষ গুণকে উৎসাহ দিন
সব শিশু একরকম হয় না। কেউ পড়াশোনায় ভালো, কেউ গানে বা আঁকায়। কারো সঙ্গে নিজের সন্তানের তুলনা করলে সে আত্মবিশ্বাস হারাতে পারে। বরং তার শক্তিগুলো খুঁজে বের করে তাকে উৎসাহ দিন।
৬. রুটিনে বন্ধুত্ব গড়ে তুলুন
আপনার ও সন্তানের জন্য একটি সময়সূচি তৈরি করুন, যেখানে দুজনেই সমানভাবে অংশ নেবে। এতে সম্পর্কের দূরত্ব কমবে এবং সে আপনাকে বন্ধু ভাবতে শিখবে।
শেষ কথা হলো—একজন সুসন্তান গড়ে তুলতে কেবল শাসন নয়, দরকার বোঝাপড়া, সহানুভূতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ। সন্তানের জীবনে আপনি শুধু অভিভাবক নন, হতে পারেন তার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বন্ধু।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ