
সংগৃহীত ছবি
একবার একজন সাহাবীর প্রয়োজন মেটাতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এক ইহুদির কাছ থেকে কিছু খেজুর ঋণ নেন। তিনি তাকে একটি নির্দিষ্ট তারিখে ঋণ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন।
ঐ সময় নবিজী (সা.) মদীনা রাষ্ট্রের শাসক, আবার ছিলেন ন্যায়পরায়ণ এক মানবপ্রেমিক। একদিন তিনি কয়েকজন সাহাবীকে সঙ্গে নিয়ে একটি জানাজা শেষে ফিরছিলেন। সঙ্গে ছিলেন আবু বকর (রা.), উমর (রা.)-এর মতো বিশিষ্ট সাহাবীরাও। হঠাৎ, সেই ইহুদি লোকটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে তাঁর গলার চাদর টেনে ধরে উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলল—
“ও মুহাম্মদ! তুমি আমার খেজুরের ঋণ কবে পরিশোধ করবে? আমি তো জানি, তোমাদের বংশে ঋণ নিলে ফেরত দাও না!”
তাঁর এ ধৃষ্টতাপূর্ণ ও অপমানজনক ভাষায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন উমর (রা)। তিনি রাগত কণ্ঠে বলেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি অনুমতি দিন, আমি এই ইহুদির গলা থেকে মাথা আলাদা করে দিই।”
কিন্তু নবিজী (সা.) অত্যন্ত শান্তভাবে বললেন—
“উমর, তোমার কাছ থেকে উত্তম আচরণই প্রত্যাশিত। তুমি বলতে পারতে, ‘হে রাসূলুল্লাহ! আপনি ঋণ পরিশোধ করে দিন।’ অথবা তাকে বলতে পারতে, ‘তুমি অনুরোধ করো ভদ্রভাবে।’”
তিনি উমর (রা.)-কে শিখালেন কীভাবে উত্তরের বদলে প্রতিউত্তর নয়, বরং নম্রতা দিয়ে অসৌজন্যের জবাব দেওয়া যায়।
এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) উমর (রা.)-কে নির্দেশ দেন,
“ও উমর, তুমি তার ঋণ পরিশোধ করো এবং তার ওপর অতিরিক্ত বিশ সা’ (প্রায় ৩২ কেজি) খেজুর দিয়ে দিও। কারণ, তুমি তাকে ভয় দেখিয়েছ।”
উমর (রা.) সেই ইহুদিকে সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন। তাঁর পাওনা খেজুর ফিরিয়ে দিলেন এবং সাথে আরো অতিরিক্ত ৩২ কেজি খেজুর দিলেন। ইহুদি তো বিস্মিত!
সে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “এই অতিরিক্ত খেজুরগুলো কেন?”
উমর (রা.) জানালেন, “আমি তোমাকে ভয় দেখিয়েছি। নবিজী (সা.) বলেছেন, সেটার প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ এগুলো দিতে।”
ইহুদি বলল, “তুমি কি জানো আমি কে?”
উমর (রা.) বললেন, “না, আমি জানি না।”
সে বলল, “আমি জায়িদ ইবনে সু’নাহ—মদীনার ইহুদিদের একজন প্রধান রাবাই (ধর্মগুরু)। আমি তোমাদের ধর্মগ্রন্থ কোরআন ও নবিজীর (সা.) আচরণ সম্পর্কে অনেক আগেই পড়েছি। আমাদের ধর্মগ্রন্থে যে সব লক্ষণ উল্লেখ আছে একজন সত্যিকারের নবীর জন্য, তার সবই আমি মুহাম্মদ (সা.)-এর মধ্যে পেয়েছি। শুধু দুটি বিষয় যাচাই বাকি ছিলো—
১. কেউ তাঁকে রাগালে তিনি ধৈর্য ধরবেন কিনা,
২. কেউ তাঁর সঙ্গে মূর্খের মতো আচরণ করলে তিনি উত্তরে ভালো ব্যবহার করবেন কিনা।
আজ আমি এ দুটোও তাঁর মধ্যে স্পষ্টভাবে দেখলাম। তাই, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি—
আমি আল্লাহকে আমার রব হিসেবে, ইসলামকে আমার দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে আল্লাহর রাসূল হিসেবে গ্রহণ করলাম। আমার অনেক সম্পদ আছে। আমি আমার অর্ধেক সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিলাম।”