প্রকাশ: বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০২৫, ৯:১১ AM আপডেট: ৩০.০৭.২০২৫ ৯:২১ এএম

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে গেছে। এতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় রাস্তা ভেঙে তিস্তার পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। নদীপাড়ের মানুষজন পড়েছেন চরম উৎকণ্ঠায়।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাত ৯ টার দিকে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি বাড়তে থাকায় ব্যারাজের সব ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিকেল ৩টায় পানি ছিল বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার নিচে। সন্ধ্যায় তা বিপৎসীমায় পৌঁছে, পরে রাত ৯টায় তা অতিক্রম করে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২.২২ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ৫২.১৫ মিটার।
তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে নীলফামারীর ডিমলা ও লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি ও বসতবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী এলাকায় পানির তীব্র তোড়ে একটি কাঁচা রাস্তা ভেঙে গেছে, ফলে তিস্তার পানি সরাসরি লোকালয়ে ঢুকছে।
নদীর তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষজন আশঙ্কা করছেন বড় ধরনের বন্যা এবং নদীভাঙনের। ইতোমধ্যে হাতীবান্ধা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের অন্তত ৮ থেকে ১০টি চর ও নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক নূরুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যায় পানি ছিল বিপৎসীমায়, রাত ৯টার দিকে তা ৫ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে যায়।
তবে নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ‘পানি কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, তবে এখনো বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই।’
এদিকে, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (বাপাউবো) জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি আরও বাড়তে পারে এবং বিপৎসীমার ওপরে থাকতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রামের তিস্তা পাড়ের নিচু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন