
সংগৃহীত ছবি
হযরত বারা ইবনে আজেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন একজন মুমিন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছান, তখন আকাশ থেকে শুভ্র, উজ্জ্বল চেহারার ফেরেশতারা জান্নাতের সুগন্ধি ও কাফন নিয়ে এসে তার পাশে বসেন। এরপর মৃত্যুদূত মালাকুল মাওত বলেন, ‘হে শান্ত আত্মা! আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টির দিকে বেরিয়ে এসো।’ তখন তার আত্মা পানির ফোঁটার মতো সহজে বেরিয়ে যায়।
অন্যদিকে, পাপীদের মৃত্যুর সময় আজাবের ফেরেশতারা কালো চেহারা নিয়ে আসেন। তারা বলেন, ‘হে অপবিত্র আত্মা! আল্লাহর গজব ও রাগের দিকে বেরিয়ে আয়।’ তখন সেই আত্মা কষ্টে ছটফট করতে করতে বের হয়।
(মুসনাদে আহমদ: ১৮৫৫৭)
রাসুল (সা.) আরও বলেছেন,
মৃত ব্যক্তিকে প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় তার পরকালের গন্তব্যস্থল দেখানো হয়। যদি সে জান্নাতবাসী হয়, তবে জান্নাতের আবাসস্থল দেখানো হয়; আর যদি সে জাহান্নামবাসী হয়, তবে জাহান্নামের বাসস্থান দেখানো হয়।
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৪০)
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন
‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। কিয়ামতের দিন তোমাদের সবাইকে তাদের কর্মফল পূর্ণরূপে দেওয়া হবে। তারপর যাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই প্রকৃত সফল। আর এই দুনিয়ার জীবন প্রতারণার বস্তু ছাড়া কিছুই নয়।’
(সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৫)
সুতরাং, প্রকৃত সফলতা লাভের জন্য পৃথিবীতে থাকাকালীনই আমাদেরকে পরকালের প্রস্তুতি নিতে হবে। বেশি বেশি নেক আমল করতে হবে।
আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন
“নেক ও ভালো কাজ মন্দ মৃত্যুকে রোধ করে, গোপনে দান আল্লাহর ক্রোধকে প্রশমিত করে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক আয়ু বাড়িয়ে দেয়।”
(তাবরানি কাবির, হাদিস: ৮০১৪)