প্রকাশ: রবিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৫, ২:১০ পিএম

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় অমাবস্যা ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ার দেখা দিয়েছে। এতে করে উপজেলার তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে উপকূলীয় এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। বসতঘর, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও রাস্তাঘাট ডুবে গিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
দুই দিন বন্ধ থাকার পর রোববার (২৭ জুলাই) সকাল থেকে হাতিয়ার সঙ্গে নৌ-যোগাযোগ আবার শুরু হয়েছে। সকাল ৮টার দিকে চেয়ারম্যান ঘাট থেকে সী-ট্রাক নলচিরা ঘাটে যাত্রী নিয়ে পৌঁছে। দুপুরে বিপরীত দিক থেকেও যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টানা বৃষ্টি ও প্রবল জোয়ারের পানিতে সুখচর ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডসহ নলচিরা, চরইস্বর ও নিঝুম দ্বীপের বিস্তীর্ণ অংশ প্লাবিত হয়। এছাড়া চরাঞ্চলের দমারচর, ঢালচর, চরগাসিয়া, নলের চর, বয়ার চর, চর আতাউর ও মৌলভীর চর এলাকাতেও ঢুকে পড়ে জোয়ারের পানি। ফলে এসব অঞ্চলের বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নষ্ট হয়েছে ফসলের ক্ষেত, মাছের ঘের ও অনেকের কাঁচা ঘরবাড়ি। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, দুর্ভোগে রয়েছেন হাজারো পরিবার।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানিয়েছে, অমাবস্যা ও নিম্নচাপের প্রভাবে প্রবল জোয়ারে তুপানিয়া, আল-আমিন গ্রাম ও নলচিরা এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীসহ সদর, বেগমগঞ্জ, সেনবাগ ও কবিরহাট উপজেলার নিম্নাঞ্চলেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ড্রেন ও খালে ময়লা জমে থাকার কারণে পানি নামতে পারছে না, ফলে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘জোয়ারের পানিতে বেশ কিছু বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলোর মেরামত কাজ শুরু হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় হাতিয়ার সঙ্গে নৌ যোগাযোগও স্বাভাবিক হয়েছে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম