প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ জুলাই, ২০২৫, ৭:৩৭ পিএম আপডেট: ২২.০৭.২০২৫ ৭:৫৬ PM

চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার আড়ালিয়া গ্রামসংলগ্ন নদীপথে চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলার বাদী রহিম বাদশা নিজেই চাঁদাবাজ চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার দুপুরে চাঁদাবাজির সময় এলাকাবাসী আব্দুল ওহাব মিয়ার পুত্র শাকিল মিয়াকে (৩৮) আটক করে গজারিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। তবে চাঁদাবাজির ঘটনাস্থল মেঘনা থানার বড়কান্দী এলাকায় হওয়ায় তাকে চালিভাঙ্গা নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চালিভাঙ্গা নৌ পুলিশের ইনচার্জ আজমগীর হোসাইন জানান, শাকিলসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে মেঘনা থানায় মামলা (নং-১০) রুজু করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ইব্রাহিম, চাঁন বাদশা, নাসির, ভুট্টু, টিপু, দীপু, ইয়াসিন, মুকবিল ও জামাল মিয়া।
স্থানীয়রা জানান, গজারিয়ার উত্তর সীমান্তবর্তী মেঘনা নদীর শাখা পথ দীর্ঘদিন ধরেই চাঁদাবাজ চক্রের দখলে। দিনের আলোতেই মালবাহী নৌযান থেকে চাঁদা আদায় করা হয়, চাঁদা না দিলে মাঝি-মাল্লাদের শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। নৌ পুলিশের কার্যকর তৎপরতা না থাকায় এই নদীপথে চলছে একপ্রকার দখলদারি চাঁদাবাজি।
স্থানীয়রা আরো জানায়, চাঁদাবাজির মামলার বাদী রহিম বাদশা এক সময় এই চক্রেরই নেতা ছিলেন। বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন সদস্যও তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে এই চক্রকে সহায়তার অভিযোগ থাকলেও সম্প্রতি বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনিরের সঙ্গে চাঁদাবাজ চক্রের কয়েকজন সদস্যের কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে মনির এসব অডিওকে অস্বীকার করে বলেন, “ এটি তার প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আজমগীর হোসাইন জানান, আটক শাকিলকে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএএম