
আগুনে পুড়ে গেলে
রান্নাঘরে কাজ করতে গিয়ে, চুলার পাশে দাঁড়িয়ে অথবা গরম কিছু হাতে নিয়ে এক মুহূর্তের অসাবধানতায় অনেক সময় ঘটে যেতে পারে আগুনে পোড়ার মতো দুর্ঘটনা।
এমন সময় অনেকেই ঘাবড়ে যান, কী করবেন বুঝে উঠতে পারেন না। অথচ এই মুহূর্তেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সবচেয়ে জরুরি। আগুনে দগ্ধ হলে প্রাথমিকভাবে কী করতে হবে আর কোন ভুলগুলো একেবারেই করা যাবে না—সেই বিষয়গুলো জানা থাকলে অনেক বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।
আগুনে দগ্ধ হলে করণীয়:
১. আগুন লাগলে দৌড়াদৌড়ি না করে চেষ্টা করুন স্থির থাকতে। পাশে কেউ থাকলে দ্রুত সাহায্য চান।
২. আগুন নিভে গেলে যত দ্রুত সম্ভব পোশাক সরিয়ে ফেলে শরীরের পুড়ে যাওয়া জায়গায় ঠাণ্ডা পানি ঢালুন। টানা ১০ মিনিট পানি ঢাললে ভালো, প্রয়োজনে বিশ্রাম নিয়ে আরও কিছুক্ষণ ঢালুন।
৩. কেউ কেউ মনে করেন, ডিমের কুসুম বা টুথপেস্ট দিলে ভালো হয়। এটা ভুল। এগুলো লাগালে ইনফেকশন আরো ইনফেকশন হতে পারে।
৪. যদি ফোসকা পড়ে, ভয় পাবেন না। বরং এটাই ভালো লক্ষণ অর্থাৎ এখনো ত্বক বাঁচানো সম্ভব।
৫. যদি ত্বক অনেক গভীরভাবে পুড়ে যায়, তাহলে ফোসকা পড়বে না। এই অবস্থায় দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
৬. পেট্রল বা তেলে আগুন ধরলে মাটিতে গড়াগড়ি দিলে আগুন নিভে যায়।
৭. আগুন নেভাতে কখনোই কম্বল বা চাদর দিয়ে জড়াবেন না। এতে আগুন আটকে আরও বেশি ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে।
সংক্রমণ (ইনফেকশন) ঠেকাতে করণীয়:
১. দগ্ধ জায়গা সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। মশা-মাছি যেন না বসে, সেজন্য পরিষ্কার মশারি ব্যবহার করুন।
২. প্রতিদিন পরিষ্কার পানি দিয়ে পোড়া জায়গা ধুতে হবে।
৩. জানালা খুলে হাওয়া চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।
৪. দগ্ধ রোগীকে প্রচুর পানি আর পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে—বিশেষ করে ডাল, মাংস, ডিম।
ডাক্তারদের জন্য কিছু জরুরি দিকনির্দেশনা:
১. কোনো চিকিৎসক যখনই আগুনে পোড়া কোনো রোগী পাবেন, সঙ্গে সঙ্গে তিনি ক্যালকুলেশন করবেন যে রোগীর শরীরের কত শতাংশ পুড়ে গেছে।
২. যদি শিশুদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে শরীরের ১৫ শতাংশ পুড়ে যায়, তবে জরুরি ভিত্তিতে ফ্লুইড স্টার্ট করা উচিত। অর্থাৎ এ অবস্থায় দ্রুত রোগীর শরীরে প্রয়োজনীয় স্যালাইন পুশ করতে হবে।
৩. মনে রাখবেন, এ অবস্থায় রোগীকে নরমাল স্যালাইন কিংবা ‘হার্ট ম্যান সলিউশন’ দেওয়া যাবে; কিন্তু কোনো অবস্থায়ই ‘অ্যাকুয়া স্যালাইন’ দেওয়া যাবে না।
৪. এরপর বাকি চিকিৎসা হিসেবে ড্রেসিং করে ‘সিলভার সালফা ডিয়াজাইন’ ক্রিম লাগিয়ে অবস্থাভেদে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে দ্রুত বার্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে।
কীভাবে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যায়?
১. রান্নার সময় ঢিলেঢালা কাপড় পরা থেকে বিরত থাকতে হবে।
২. ছোট শিশুরা যেন রান্নাঘরে না যায় বা গরম কিছুতে হাত না দেয়, খেয়াল রাখা জরুরী।
৩. রান্নার সময় বসে না, দাঁড়িয়ে রান্না করা ভালো।
৪. চুলা ব্যবহারের পর ভালোভাবে নিভিয়ে ফেলতে হবে।
৫. গরম কিছু কখনোই চুলার ওপর বা ঝুলন্ত অবস্থায় রাখা যাবে না।