প্রকাশ: সোমবার, ২১ জুলাই, ২০২৫, ১১:০৬ AM

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১১৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু ত্রাণের জন্য জড়ো হওয়া ৮৫ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
রোববার (২০ জুলাই) দিনে গাজার বিভিন্ন এলাকায় এসব মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতদের বেশিরভাগই উত্তর গাজার বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, জাতিসংঘের ত্রাণবাহী ট্রাক আসার অপেক্ষায় জিকিম সীমান্তে জড়ো হয়েছিলেন অসংখ্য মানুষ। সেখানেই ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান অন্তত ৬৯ জন। এছাড়া রাফাহ ও খান ইউনিস এলাকাতেও একইভাবে মানুষ নিহত হন।
ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, হাজারো ফিলিস্তিনির উপস্থিতি তাদের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিল, তাই তারা সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে। তবে তারা সরাসরি কোনো ত্রাণবাহী ট্রাককে লক্ষ্য করেনি বলে দাবি করেছে। বাহিনী আরও বলেছে, নিহতের সংখ্যা গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বাড়িয়ে বলছে।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানায়, খাদ্যবাহী ২৫টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করলে সেগুলোর চারপাশে হাজার হাজার ক্ষুধার্ত মানুষ জড়ো হন। এই সময়েই গুলির ঘটনা ঘটে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, ত্রাণের জন্য অপেক্ষমাণ নিরীহ মানুষের ওপর গুলি চালানো "সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য"।
এছাড়া দক্ষিণ গাজার আরেকটি ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুরো দিনজুড়ে গাজার বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা ও গুলিতে অন্তত ৯০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
হামাসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ইসরায়েলি হামলা ও খাদ্য সংকটে গাজাবাসীর মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি কাতারে চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: ডব্লিউএফপি
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম