
সংগৃহীত ছবি
‘বাতিঘরের বয়স এবার একুশে পড়ল। এখন বাতিঘরকে নিয়ে আমাদের একটু ভাবার সময় এসেছে।’ এমন মন্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করেন উপস্থাপক জাফর আহমদ রাশেদ। তাঁর কণ্ঠেই ঘোষণা আসে: গান হবে, আবৃত্তি হবে, আলোচনা হবে, কেউ কেউ বই পড়বেন—আর এই আয়োজন চলবে এক অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে, যেখানে মানুষ আসবে, যাবে, আর যুক্ত হবে বাতিঘরের আনন্দমুখরতায়।
গতকাল শুক্রবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজশাহীর খানসামার চক এলাকায় বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এমনই এক প্রাণবন্ত আয়োজন হয়।
শুরুতেই শিল্পী তানজিলা জিনাত গেয়ে ওঠেন রজনীকান্ত সেনের গান, ‘জাগাও পথিকে, ও সে ঘুমে অচেতন।’
শ্রাবণের বৃষ্টিস্নাত বিকেলে শুরু হয় অনুষ্ঠান। কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি যেন বাড়তি আবহ তৈরি করে। এরপর তানজিলা জিনাত গেয়ে আরো শোনান রবীন্দ্রনাথের ‘নিশীথ রাতের বাদল ধারা…’ গানটি।
গানের ফাঁকে আলোচনায় অংশ নেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ–আল মামুন।
তিনি ভালো ও মন্দ বই নিয়ে নির্মোহ বিশ্লেষণ তুলে ধরে বললেন, কিছু বই পুড়িয়েও দেওয়া দরকার। এতে কোনো চিন্তার খোরাক নেই; বরং পাঠককে বিপথগামী করতে পারে। আবার তিনিই শোনালেন বই নিয়ে আশার কথাও। বললেন, ‘বই ছাড়া আমার চলে না। প্রতিদিন পড়ি। হাজারো বই আমাকে পড়তে হয়।’
‘স্বনন’ আবৃত্তি সংগঠনের শিল্পীরা একক ও দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করেন। এরপর মঞ্চে আসেন শিল্পী অনিক রায়। তাঁর গাওয়া ‘জীবনানন্দ হয়ে সংসারে আজও আমি…’ গানটি বদলে দেয় পুরো পরিবেশের আবহ।
আয়োজনের শেষ দিকে বাতিঘরের স্বত্বাধিকারী দীপঙ্কর দাস জানান, বাতিঘরের যাত্রা শুরু হয়েছিল চট্টগ্রামে মাত্র ১০০ বর্গফুট জায়গা নিয়ে।
তিনি বলেন, “বই পড়ার চাহিদা এখনও আছে, বরং কমেছে সিডি আর সিনেমার দোকান। বই থাকবে যতদিন, বাতিঘরও পাঠকের পাশে থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “অনেক অশুভ তৎপরতার ভিড়েও ভালো মানুষ এখনও আছেন। আমাদের ধারণা, যে বই পড়ে, সে অন্যায়ের পথে কম হাঁটে। বাচ্চাদের বলি, গল্পের বইটা একটু হাতে নাও, দেখো কী আনন্দ আছে তার ভেতরে।”
এইভাবেই গল্প, গান, আবৃত্তি আর আড্ডায় বাতিঘরের একুশতম জন্মদিন হয়ে উঠল এক অনানুষ্ঠানিক অথচ হৃদয়স্পর্শী সাংস্কৃতিক মিলনমেলা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএএম