
ফাইল ছবি
গোপালগঞ্জ জেলার নাম পরিবর্তন নয়, বরং পুরো জেলা চারটি আশপাশের জেলায় ভাগ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) কুষ্টিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ প্রস্তাব দেন।
মুফতি হামজা বলেন, “গোপালগঞ্জ জেলা মানচিত্রে না থাকাই ভালো। এটা একটা অভিশপ্ত জেলা। বরং নড়াইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও বরিশাল—এই চারটি জেলার মধ্যে ভাগ করে দিলে সমস্যার সমাধান হয়।”
তিনি আরও বলেন, “এই জেলার তিনটি সংসদীয় আসন তিন জেলায় ভাগ করে দিলেই তো গোপালগঞ্জ জেলা মুছে যাবে।”
জামায়াতে ইসলামীর এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয় গত বুধবার গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতার প্রতিবাদে। মুফতি হামজা ওই সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, “জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলা মানে দেশের ১৮ কোটি মানুষের ওপর হামলা। এর জবাবদিহি না হলে ধরে নিতে হবে—গোপালগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্তরাই এতে জড়িত।”
বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াত নেতারা গোপালগঞ্জ জেলার নতুন নাম ঘোষণার দাবিতে অধ্যাদেশ জারির আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তারা দাবি করেন, জেলার পুলিশ সুপার এ ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না।
এদিকে, সহিংসতার ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) মধ্যরাতে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন পুলিশের পরিদর্শক আহম্মেদ আলী। মামলায় ৭৫ জনকে নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মো. সাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “মামলায় পুলিশের গাড়ি পোড়ানো, ভাঙচুর, হামলা ও সংঘর্ষের অভিযোগ আনা হয়েছে।”
বুধবারের (১৬ জুলাই) ওই ঘটনার সময় সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হন। তারা হলেন—গোপালগঞ্জের হরিণাহাটি গ্রামের রমজান কাজী (১৯), শানাপাড়ার সোহেল রানা (৩৫), উদয়ন রোডের দীপ্ত সাহা (৩০), ভেড়ার বাজার এলাকার ইমন তালুকদার (২৪) ও রমজান মুন্সী (৩২)।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বুধবার সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ জেলায় কারফিউ জারি করা হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর