
রংপুরের মিঠাপুকুরে বাঁশের বেড়া দিয়ে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এতে ১৪দিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন দুটি পরিবার। যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ থাকায় ভুক্তভোগী পরিবার দুটি জঙ্গল ও মানুষের জমির আইল দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করছেন বলে জানা গিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মিঠাপুকুর উপজেলার ১৩ নং গোপালপুর ইউনিয়নের সাদ-কৃষ্ণপুর এজরা পাড়ায় ১৪ দিন ধরে দুটি পরিবারের বাড়িতে প্রবেশের রাস্তা বন্ধ। বাড়িতে ঢোকার কোনো রাস্তা নেই। বড়বড় বাঁশের বেড়া দিয়ে বাড়ির চারদিকে রাস্তাটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বাঁশের বেড়া যাতে ভেঙে ফেলা না হয় সেজন্য কিছু লোকজন পাহারা দিচ্ছে। এসময় জঙ্গলের ভিতর থেকে শিশু সহ ৭/৮ জন পুরুষ মহিলা বের হয়ে এসে জানালেন সম্পর্কে তাদের মামাত ভাইয়েরা তাদের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। সামান্য বিরোধের কারনে প্রায়ই তারা রাস্তা বন্ধ করে দেন। অথচ কোনো একসময়ে অভিযুক্ত মামা এবং মামাত ভাইয়েরা তাদের বিতাড়িত করে এই রাস্তাটি দেন।
স্থানীয়রা জানান,আব্দুল আজিজ, এজরা পাড়ায় মৃত-নছির উদ্দিনের মেয়েকে বিয়ে করে ঘরজামাই ছিলেন। ঘরজামাই থাকাকালে আব্দুল আজিজ তার স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে সেখানেই বসবাস করতেন। নছির উদ্দিনের মৃত্যুর পর মৃত- আব্দুল আজিজের পরিবারকে তাড়াতে ব্যস্ত হয়ে উঠেন সাহেব আলী, আইয়ুব মিয়া, সোহান মিয়া, রহমত আলী, বোরহান সহ চাঁন মিয়া। নছির উদ্দিনের মেয়ের ভাগের জমি তার সন্তানদের না দিয়ে ভাইয়েরা ভাগ্নেদের বাড়িঘর উচ্ছেদ করেন। পরে স্থানীয়দের তোপের মুখে কবরস্থানের পাশে ভাগ্নেদের জায়গা দেন। এবং সবার পক্ষ থেকে ৩ শতাংশ জমি তাদের যাতায়াতের জন্য দেওয়া হয়।
মোন্তেজার বলেন, নানার বাড়িতে আমাদের বাড়ি ছিল। পরে মামা এবং মামাত ভাইয়েরা আমাদের উচ্ছেদ করে। নতুন বাড়ি করতে বাঁশ বাগানের ভিতর দিয়ে রাস্তা দেয়। ১০ থেকে ১২ বছর আগে আমরা এখানে বাড়ি করি। কিছুদিন আগে তাদের দেয়া একটি মামলায় আমরা ১২ শতাংশ জমি ভাগে পাই। এখন ওই জমিটা লিখে নিতে আমাদের চাপ দিচ্ছে এবং কৌশলে রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছে।এতে আমার ভাই আজাহার সহ আমি চরম বিপাকে পড়েছি। বাচ্চারা বাড়ি থেকে বের হতে পারছেনা।
আজাহার বলেন, ‘আমরা দুই ভাই কৃষি কাজ করি। কোনো রকমে সংসার চলে। রাস্তার জমিটিও আমাদের নামে রেকর্ড। তবুও মামা এবং মামাত ভাইয়েরা আমাদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছে। যেহেতু এখানে আমাদের আপন কেউ নেই, তাই তারা হত্যার হুমকি দিচ্ছে।,
স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম মিয়া বলেন, এই রাস্তা দিয়ে এঁরা ১০ বছর থেকে হাঁটাচলা করে। সাহেব গং - বারবার অসহায় এই লোকগুলোকে হেনস্তা করছে। নানার জমির ভাগ না দিতে সাহেব গং তাদের তাড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
অভিযুক্ত সাহেব মেম্বার বলেন, ওরা রাস্তা নিলে আমাদের বাড়ি ভিটায় ওদের যে জমি আছে, আমাদের তা লিখে দিতে হবে। নাহলে ওদের রাস্তা বন্ধ থাকবে। তবে তিনি স্বীকার করেন, রাস্তার জমি এককভাবে কারো নামে নেই।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদ বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘেরা সরানোর কথা বলেছি। কিন্তু তারা আমার কথা শোনেনাই।
তিনি আরো বলেন, রাস্তা বন্ধ করে প্রতিপক্ষ কাজটা মোটেও ঠিক করেনি। এটা অমানবিক কাজ। যারা রাস্তা বন্ধ করেছে, রাস্তাটি এককভাবে তাদের নামেও নেই। আমি ভুক্তভোগীদের আইনি সহযোগিতা নিতে বলেছি। পাশাপাশি ইউপি চেয়ারম্যান কিংবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানাতে বলেছি।
১৩ নং গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, হারুনর রশীদ হারুন, স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ঘটনাটি আপনাদের মাধ্যমে শুনলাম। কথা বলে দেখি রাস্তাটি খুলে দেয়া যায় নাকি। প্রয়োজনে উভয়পক্ষকে নিয়ে বসা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে