
ফাইল ছবি
মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা চালু করেছে দেশটির সরকার। এখন থেকে কর্মীরা পারিবারিক বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে এসে সহজেই পুনরায় কাজে ফিরে যেতে পারবেন—যা তাদের কর্মস্থলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাতে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের এক ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পরে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল-ও বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে পরিপত্র পাঠানো হয়েছে।
গত মে মাসে মালয়েশিয়া সফরকালে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী ও উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানেই বাংলাদেশি কর্মীদের সিঙ্গেল ভিসা সমস্যার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তোলা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ১০ জুলাই মালয়েশিয়া সরকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা চালুর নির্দেশনা জারি করে।
ড. আসিফ নজরুল জানান, যাদের আগে থেকেই সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা ও বৈধ PLKS (Temporary Employment Visit Pass) আছে, তারা নতুন করে আবেদন না করেই মাল্টিপল ভিসার সুবিধা পাবেন। PLKS নবায়নের সময় মাল্টিপল ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে যাবে।
এছাড়া বর্তমানে যাদের সিঙ্গেল ভিসা থাকলেও PLKS বৈধ আছে, তারা নতুন ভিসা ছাড়াই মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করতে পারবেন। বিষয়টি মালয়েশিয়ার সকল বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে জানানো হয়েছে।
মালয়েশিয়া ১৫টি দেশ থেকে কর্মী নিলেও এতদিন কেবল বাংলাদেশিদের জন্য সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা প্রযোজ্য ছিল। এতে কর্মীদের দেশে আসা-যাওয়া বাধাগ্রস্ত হতো এবং নতুন ভিসা পেতে দীর্ঘ সময় ও ভোগান্তির শিকার হতে হতো।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশি শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাবে। এখন তারা আত্মীয়-স্বজনের প্রয়োজনে দেশে আসতেও পারবেন এবং পুনরায় কর্মস্থলে ফিরতেও পারবেন।
মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা চালু হওয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এটি তাদের জন্য যেমন স্বস্তির খবর, তেমনি বাংলাদেশের জন্যও এক কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর