প্রকাশ: রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫, ২:৪৫ পিএম

অসাধারণ এক ফাইনালে ইতিহাস সৃষ্টি করে প্রথমবার উইম্বলডনের নারী এককে শিরোপা জিতলেন পোল্যান্ডের তারকা ইগা সিওটেক। এটি তার মোট ষষ্ঠ গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্রফি হলেও, এখন পর্যন্ত উইম্বলডনটাই যেন বাকি ছিল। অল ইংল্যান্ড ক্লাবের সেন্টার কোর্টে সিওটেক যুক্তরাষ্ট্রের আমান্ডা আনিসিমোভাকে একেবারেই দাঁড়াতে না দিয়ে ৬-০, ৬-০ গেমে হারিয়েছেন। ইতিহাসের তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ‘ডাবল ব্যাগেল’ উপহার দিয়ে শিরোপা জিতেছেন তিনি।
মাত্র ৫৭ মিনিট স্থায়ী হয় সিওটেক-আনিসিমোভার মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচ। উইম্বলডনের ইতিহাসে এতো কম সময়ের একতরফা ফাইনাল খুব কমই দেখা গেছে। ১১৪ বছর আগে, ১৯১১ সালে, ডরোথি ল্যাম্বার্ট-চ্যাম্বার্স একই ব্যবধানে (৬-০, ৬-০) হারিয়েছিলেন ডোরা বুথবিকে। এরকম আরেক নজির হলো সর্বকালের অন্যতম সেরা নারী টেনিস তারকা স্টেফি গ্রাফ ১৯৮৮ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেনে নাতাশা জভেরেভাকে একই ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন।
এই শিরোপার মাধ্যমে গ্র্যান্ড স্ল্যামে নিজের শততম ম্যাচ জয় ছুঁয়ে ফেললেন সিওটেক, যা তিনি করেছেন মাত্র ১২০টি ম্যাচ খেলে। সেরেনা উইলিয়ামসের পরে সবচেয়ে দ্রুততম শততম জয়। এছাড়াও প্রথম পোলিশ খেলোয়াড় হিসেবে উইম্বলডনের একক শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেছেন ইগা।
যদিও প্রথমবার উইম্বলডনের ফাইনাল খেলতে নেমেছিলেন র্যাঙ্কিংয়ের এই অষ্টম খেলোয়াড়। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ‘ভেনাস রোজওয়াটার ডিশ’ হাতে নিয়ে আবেগে আপ্লুত সিওটেক বলেন, “সবকিছুই এখনো অবাস্তব মনে হচ্ছে। এটা আমার কল্পনারও বাইরে ছিল। যদিও এর আগেও গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছি, তবু উইম্বলডন নিয়ে কখনো এমন আশা করিনি। দুর্দান্ত দুটি সপ্তাহ কাটানোর জন্য আমান্ডাকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি সে ভবিষ্যতে আরও অনেক ফাইনাল খেলবে।”
অন্যদিকে, ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় পেরিয়ে আমান্ডা আনিসিমোভাও উঠে এসেছিলেন এই ফাইনালে। ২০১৯ সালে নিজের বাবাকে হারিয়ে ভেঙে পড়েন তিনি, যিনি ছিলেন তার কোচও। পরবর্তীতে মানসিক অবসাদের কারণে ২০২৩ সালে টেনিস থেকে দীর্ঘ বিরতি নিতে হয় তাকে। তখন র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে পড়েন ৪০০-এর নিচে। গত বছর আবারও ফিরে আসেন, এবং চলতি আসরে ১৩তম বাছাই হিসেবে খেলতে নামেন।
সেমিফাইনালে জনপ্রিয় বেলারুশিয়ান তারকা আরিয়ানা সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে আমান্ডা ফাইনালে পরাজয় মেনে নিয়ে কেঁদে ফেলেন।পরক্ষণে নিজেক সামলে নিয়ে বলেন, “এখানে আসার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। উড়তে পারবেন না এমন সংস্কার ঝেঁটিয়ে বিদায় করার জন্যও ধন্যবাদ। আমি অবশ্য এসব কারণে আজ হারিনি! আমি জানি আজ বেশি কিছু করতে পারিনি। তবে পরিশ্রম করে যাব। আশা করছি কোনো একদিন আবারও ফিরতে পারব এখানে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ