প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০২৫, ৯:৫২ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ফের চরমে। আবারও যুদ্ধে জড়ানোর পাঁয়তারা করছে ইসরায়েল এবং এই পরিকল্পনায় দেশটিকে সমর্থন দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় পূর্ণ প্রস্তুতিতে রয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্রের বরাতে বলা হয়, ইসরায়েলি সরকার যুদ্ধ চায় এবং ট্রাম্পও এতে সক্রিয়ভাবে সমর্থন দিয়ে আসছেন। সূত্রটি আরও জানায়, ইরান মনে করে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের আসন্ন বৈঠক মূলত ১২ দিনের যুদ্ধের পূর্ব প্রস্তুতিরই অংশ।
সূত্রের দাবি, “এসব বৈঠক প্রতারণামূলক। কী হবে তা আগেই নির্ধারিত থাকে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কোনো শান্তি আশা করা যায় না। এই ধাপ অতিক্রমের পরই কূটনৈতিক সমঝোতার কথা ভাবা যেতে পারে।”
এর আগে, গত ১৩ জুন ইরানের ওপর সরাসরি হামলা চালায় ইসরায়েল। হামলায় ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার, পরমাণু বিজ্ঞানী ও সাধারণ নাগরিক নিহত হন। জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৩ জুন ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ঘোষণা দেন, ইরান ও ইসরায়েল ১২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং এরপর ধাপে ধাপে যুদ্ধ সমাপ্তির পথে এগোবে।
ট্রাম্প জানান, “এই যুদ্ধ বছর ধরে চলতে পারত, কিন্তু তা হয়নি এবং কখনোই হবে না।” তিনি উভয় দেশকে “সাহস, ধৈর্য ও বুদ্ধিমত্তার” জন্য অভিনন্দন জানান এবং পোস্টের শেষাংশে বলেন, “গড ব্লেস ইসরায়েল, গড ব্লেস ইরান, গড ব্লেস দ্য মিডল ইস্ট, গড ব্লেস দ্য ইউএসএ, অ্যান্ড গড ব্লেস দ্য ওয়ার্ল্ড।”
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আবারও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল। যদি এই যুদ্ধ পুনরায় শুরু হয়, তবে তা কেবল দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না— পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর