প্রকাশ: সোমবার, ৭ জুলাই, ২০২৫, ৮:৪৮ পিএম

মিয়ানমারে সামরিক জান্তা-বিরোধী দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় প্রাণ বাঁচাতে দেশটির হাজার হাজার মানুষ প্রতিবেশী ভারতের মিজোরাম রাজ্যে পালিয়ে যাচ্ছেন। সোমবার (৭ জুলাই) ভারতের জ্যেষ্ঠ এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ।
গত ২ জুলাই মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় চিন রাজ্যে চিন ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স (CNDF) ও চিনল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্স-হুয়ালংরাম (CDF-H) এর মধ্যে কৌশলগত এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। ওই দিন থেকেই হাজার হাজার মিয়ানমার নাগরিক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিজোরামে ঢুকতে শুরু করেন।
গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইতিমধ্যে প্রায় ৪ হাজার শরণার্থী মিজোরামে প্রবেশ করেছেন। রোববার রাত পর্যন্ত রাজ্যের চাম্পাই জেলার জোখাওথার ও সাইখুমফাই গ্রামে মোট ৩ হাজার ৯৮০ জন শরণার্থীকে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
মিজোরামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে সাপদাঙ্গা জানিয়েছেন, “চিন রাজ্যে সংঘর্ষ আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা এসব মানুষকে পানি, খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, শরণার্থীর প্রকৃত সংখ্যা ৩ হাজারের বেশি হতে পারে এবং প্রতিদিনই এই সংখ্যা বাড়ছে। শুরুতে সীমিত সংখ্যক মানুষ এলেও এখন সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করায় ও সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় আরও বেশিসংখ্যক মানুষ আসতে শুরু করেন।
মিয়ানমারের চিন রাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণ থাকা বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে। দুই অঞ্চলের জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ জাতিগত সম্পর্কও বিদ্যমান। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিজোরাম রাজ্য মিয়ানমারের হাজার হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে।
এই বিষয়ে জানতে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের একজন মুখপাত্রকে টেলিফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
স্বদেশ প্রতিদিন/আরএফ