
কুমিল্লার মুরাদনগরে ধর্ষণের শিকার এক নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা ঘটনার পাঁচ দিন পরও করা হয়নি। ভুক্তভোগী মত পরিবর্তন করায় চিকিৎসকরা পরীক্ষা চালাতে পারেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাতে ধর্ষণের ঘটনার পরদিন শুক্রবার (২৮ জুন) ভুক্তভোগী নারী মুরাদনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জানান, আমরা তার ডাক্তারি পরীক্ষা করানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি রাজি না হওয়ায় পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগীর এক স্বজন জানান, গ্রেপ্তার ফজর আলীকে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনায় ভিকটিম ও তার পরিবার ভীত হয়ে পড়েছে। তারা আশঙ্কা করছে, ফজর আলী মারা গেলে তাদের বিপদ বাড়তে পারে। এ কারণে নারীটি ডাক্তারি পরীক্ষা ও মামলার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেছেন।
তবে ওই স্বজন আরও জানান, যদি পুলিশ চায় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তাহলে ভুক্তভোগী আবার ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে আগ্রহী।
এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফজর আলীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তাদের মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে ভিডিওটি প্রথমে কোন ডিভাইস বা আইডি থেকে ছড়ানো হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) কুমিল্লা প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট শিল্পী সাহা বলেন, ‘ধর্ষণ মামলায় ডাক্তারি পরীক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনাপরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরীক্ষা করানো উচিত। তবে এখন দেরি হলেও পরীক্ষাটি করানো এবং ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত পোশাকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা প্রয়োজন, না হলে মামলায় দুর্বলতা তৈরি হতে পারে।’
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শারমীন সুলতানা জানান, আইন অনুযায়ী, ভিকটিম যদি ডাক্তারি পরীক্ষা না করাতে চান, তাহলে জোর করে তা করা যায় না।
মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। তাকে মানসিক ট্রমা থেকে বের করে আনতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম