বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
ঝুঁকির সাঁকোই ভরসা: সেতুবিহীন চিত্রা নদী পার হচ্ছে ৩০ গ্রামের মানুষ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ জুন, ২০২৫, ৬:৩৮ পিএম
সেতুবিহীন চিত্রা নদী পার হচ্ছে ৩০ গ্রামের মানুষ

সেতুবিহীন চিত্রা নদী পার হচ্ছে ৩০ গ্রামের মানুষ

চিত্রা নদীর ওপর বাঁশ দিয়ে তৈরি একটি ভাঙাচোরা সাঁকো। সেটিই পারাপারের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার একতারপুর ও পারখিদ্দা গ্রামের শত শত মানুষের জীবনে।

বারবার (২৯ জুন) সেতুর দাবিতে আবেদন জানানো হলেও আজও বাস্তবে রূপ নেয়নি কাঙ্ক্ষিত সেই পাকা সেতু।

স্থানীয়রা জানান, নিজ উদ্যোগে গ্রামবাসীর শ্রম ও বাঁশ কেটে তৈরি এই সাঁকো এখন ৩০ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের মূল পথ। প্রতিদিন এই ভাঙা সাঁকো দিয়ে স্কুল, মাদরাসা, বাজার ও নানা প্রয়োজনে নদী পার হচ্ছেন শিশু, শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্করা।

সাঁকোটি চিত্রা নদীর ওপর একতারপুর ও পারখিদ্দা গ্রামকে সংযুক্ত করেছে। এ পথ দিয়ে পার হন একতারপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং পারখিদ্দা দাখিল মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীরা।

বর্ষাকালে যখন নদীর পানি বেড়ে যায়, তখন সাঁকোটি ডুবে যায় এবং পার হওয়া হয়ে পড়ে প্রায় অসম্ভব।

শিক্ষার্থী সাদিয়া জানায়, বর্ষাকালে সাঁকো ভেঙে যায়, তখন স্কুলে যাওয়া খুব কষ্টকর হয়। বিকল্প পথ দিয়ে গেলে অনেকটা ঘুরে যেতে হয়, এতে স্কুলে পৌঁছাতেও দেরি হয়।

মাদরাসার ছাত্রী আশরিন নাহার বলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এখানেই যদি একটা সেতু হতো, তাহলে আমাদের অনেক উপকার হতো।’

গ্রামের বয়স্করা ও কৃষকরাও এই সাঁকো দিয়েই যাতায়াত করেন। ভারি বোঝা নিয়ে সাঁকো পার হওয়া তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

একতারপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আশরাফ আলী বলেন, ‘বর্ষাকালে সাঁকোর বাঁশ পিচ্ছিল হয়ে যায়। তখন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি। প্রায়ই শিশু বা বৃদ্ধরা পড়ে গিয়ে আহত হন।’

এই সাঁকো ব্যবহার করেন ৮ নম্বর মালিয়াট, ৯ নম্বর নিয়ামতপুর, জহোরপুর ও ৭ নম্বর রায়গ্রাম ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ। দক্ষিণে ও উত্তরে ৮ কিলোমিটার দূরত্বে দুটি সেতু থাকলেও সেগুলো ব্যবহার করতে সময় ও কষ্ট হয় বেশি, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও জরুরি রোগীদের জন্য।

স্থানীয় বাসিন্দা রহিম আলী বলেন, ‘প্রতিবার নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা সেতুর প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু পরে আর কেউ খোঁজ রাখে না। অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নিতে হলে এই সাঁকো পার হওয়া অসহনীয় হয়ে ওঠে।’

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেদারুল ইসলাম বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের হাতে সেতু নির্মাণের কোনো বরাদ্দ নেই। তবে ভবিষ্যতে বাজেট পেলে সরেজমিনে দেখে প্রস্তাব পাঠানো হবে।’

স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম

আরও সংবাদ   বিষয়:  সাঁকো   চিত্রা নদী  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close