
সেতুবিহীন চিত্রা নদী পার হচ্ছে ৩০ গ্রামের মানুষ
চিত্রা নদীর ওপর বাঁশ দিয়ে তৈরি একটি ভাঙাচোরা সাঁকো। সেটিই পারাপারের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার একতারপুর ও পারখিদ্দা গ্রামের শত শত মানুষের জীবনে।
বারবার (২৯ জুন) সেতুর দাবিতে আবেদন জানানো হলেও আজও বাস্তবে রূপ নেয়নি কাঙ্ক্ষিত সেই পাকা সেতু।
স্থানীয়রা জানান, নিজ উদ্যোগে গ্রামবাসীর শ্রম ও বাঁশ কেটে তৈরি এই সাঁকো এখন ৩০ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের মূল পথ। প্রতিদিন এই ভাঙা সাঁকো দিয়ে স্কুল, মাদরাসা, বাজার ও নানা প্রয়োজনে নদী পার হচ্ছেন শিশু, শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্করা।
সাঁকোটি চিত্রা নদীর ওপর একতারপুর ও পারখিদ্দা গ্রামকে সংযুক্ত করেছে। এ পথ দিয়ে পার হন একতারপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং পারখিদ্দা দাখিল মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীরা।
বর্ষাকালে যখন নদীর পানি বেড়ে যায়, তখন সাঁকোটি ডুবে যায় এবং পার হওয়া হয়ে পড়ে প্রায় অসম্ভব।
শিক্ষার্থী সাদিয়া জানায়, বর্ষাকালে সাঁকো ভেঙে যায়, তখন স্কুলে যাওয়া খুব কষ্টকর হয়। বিকল্প পথ দিয়ে গেলে অনেকটা ঘুরে যেতে হয়, এতে স্কুলে পৌঁছাতেও দেরি হয়।
মাদরাসার ছাত্রী আশরিন নাহার বলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এখানেই যদি একটা সেতু হতো, তাহলে আমাদের অনেক উপকার হতো।’
গ্রামের বয়স্করা ও কৃষকরাও এই সাঁকো দিয়েই যাতায়াত করেন। ভারি বোঝা নিয়ে সাঁকো পার হওয়া তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
একতারপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আশরাফ আলী বলেন, ‘বর্ষাকালে সাঁকোর বাঁশ পিচ্ছিল হয়ে যায়। তখন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি। প্রায়ই শিশু বা বৃদ্ধরা পড়ে গিয়ে আহত হন।’
এই সাঁকো ব্যবহার করেন ৮ নম্বর মালিয়াট, ৯ নম্বর নিয়ামতপুর, জহোরপুর ও ৭ নম্বর রায়গ্রাম ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ। দক্ষিণে ও উত্তরে ৮ কিলোমিটার দূরত্বে দুটি সেতু থাকলেও সেগুলো ব্যবহার করতে সময় ও কষ্ট হয় বেশি, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও জরুরি রোগীদের জন্য।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিম আলী বলেন, ‘প্রতিবার নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা সেতুর প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু পরে আর কেউ খোঁজ রাখে না। অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নিতে হলে এই সাঁকো পার হওয়া অসহনীয় হয়ে ওঠে।’
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেদারুল ইসলাম বলেন, ‘এই
মুহূর্তে আমাদের হাতে সেতু নির্মাণের কোনো বরাদ্দ নেই। তবে ভবিষ্যতে বাজেট
পেলে সরেজমিনে দেখে প্রস্তাব পাঠানো হবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম