প্রকাশ: রবিবার, ২৯ জুন, ২০২৫, ১০:১৪ পিএম

সংগৃহীত ছবি
ঝালকাঠি সদর উপজেলার পূর্ব গুয়াটন গ্রামে একটি বিশাল তালগাছ কেটে শতাধিক বাবুই পাখির বাসা ও ছানা ধ্বংস করার ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বন বিভাগ ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা গেছে, শুক্রবার (২৮ জুন) বিকেলে মোবারেক আলী ফকিরের মালিকানাধীন জমির তালগাছটি মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি কিনে কেটে ফেলেন। গাছটি বাবুই পাখির দীর্ঘদিনের প্রজনন ও বাসস্থান হিসেবে পরিচিত ছিল। স্থানীয়দের বাধা সত্ত্বেও তিনি গাছ কেটে ফেলেন। এতে বাবুই পাখির শতাধিক ডিম ও অর্ধশতাধিক ছানা মারা যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এ ঘটনায় রোববার (২৯ জুন) পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুসারে বন বিভাগ বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। পাশাপাশি তালগাছ কাটার অভিযোগে ঝালকাঠি সদর থানায় আরও একটি মামলা হয়।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “তালগাছ কাটার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এছাড়া পাখির আবাসস্থল ধ্বংস করায় বন বিভাগ আদালতে আরেকটি মামলা করেছে।”
সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, “এটি একটি পরিবেশ সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধ। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছি এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
বরিশালের উপ- বন সংরক্ষক মো. কবির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইন অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে।”
এদিকে অভিযুক্ত গাছ ক্রেতা মিজানুর রহমান এবং গাছ বিক্রেতা মোবারেক আলী আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় পরিবেশবান্ধব নাগরিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর